জোর করে দাগিয়ে দেওয়া হত যে সে ‘সমকামী’। এই নিয়ে দিনের পর দিন ধরে চলছিল মানসিক নির্যাতন। বান্ধবীর সঙ্গে জোর করে সমকামী সম্পর্ক মানতে বাধ্য করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু তাদের কথামতো কাজ না করায় মারধরও করা হত বলে অভিযোগ উঠল সহপাঠীদের বিরুদ্ধে। এভাবেই দিনের পর দিন ধরে স্কুল হোস্টেলেই র্যাগিংয়ের শিকার এক ছাত্রী।
কী অভিযোগ উঠেছে?
এমন র্যাগিংয়ের ঘটনার অভিযোগ উঠল উত্তর ২৪ পরগণার দেগঙ্গা থানার হাড়োয়া রেলগেট সংলগ্ন হাদিপুরের এক বেসরকারি আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে। সেখান এক অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীকে র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রী দক্ষিণ ২৪ পরগণার ফলতা থানা এলাকার বাসিন্দা।
জানা গিয়েছে, গত ১ অক্টোবর ওই অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীর সঙ্গে আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখা করতে যান তার মা-বাবা। সেখানে গিয়েই তারা জানতে পারে যে বেশ কয়েকদিন ধরেই তদের মেয়েকে সমকামী বলে কটূক্তি করছে তার সহপাঠীরা। এমনকি, এই ঘটনার প্রতিবাদ করার জন্য ওই ছাত্রীকে বেধড়ক মারধরও করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
ওই ছাত্রীর মা-বাবা জানান যে সহপাঠীদের এমন আতঙ্কে তাদের মেয়ে আর ওই হোস্টেলে থাকতে রাজি হচ্ছিল না। ওই আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষিকাকে এই বিষয়টি জানান নির্যাতিতা ছাত্রীর মা-বাবা। কিন্তু তিনি তাতে বিশেষ গুরুত্ব দেন নি বলে অভিযোগ।
এরপরই এই গোটা বিষয়টি দেগঙ্গা থানার পুলিশকে জানায় ছাত্রীর মা-বাবা। কিন্তু অভিযোগ, পুলিশ এরপরও কোনও ব্যবস্থা নেয় নি। সেই কারণে ফের দেগঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয় ছাত্রীর পরিবারের তরফে।
কী জানায় নির্যাতিতা ছাত্রী?
ওই আক্রান্ত ছাত্রীর কথায়, “বান্ধবীর সঙ্গে আমার সমকামী সম্পর্ক স্বীকার করতে বলেছিল সহপাঠীরা। স্বীকার না করায় প্রথমে বান্ধবীকে তারপরে আমাকে মারধর করেছে। শিক্ষিকাকে জানালে উলটে আমাদেরই বকা দিয়েছে। প্রায়ই আমাকে বান্ধবীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কটুক্তি করা হত”।
ওই ছাত্রীর মায়ের দাবী, “মিশনের তরফে আমাদের কিছু বলা হয়নি। মেয়ের কাছ থেকে জেনে আমরা প্রধান শিক্ষিকার কাছে জানতে চাইলে উনি কথা বলেননি। মধ্যমগ্রামের গ্রামীণ হাসপাতালে মেয়েকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম”। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার