মা, দুনিয়ার সবথেকে সুন্দর ও ভালোবাসা ভরা শব্দ। একজন মা তাঁর সন্তানের জন্য যে কী করতে পারে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সন্তানকে সুস্থ রাখতে, সন্তানের মঙ্গলের জন্য যে কোনও সীমা অতিক্রম করতে পারেন একজন মা। কিন্তু সেই মা-ই যদি সন্তানের প্রাণনাশ করেন, তাহলে? এমন ঘটনা বাস্তবে ঘটল যা শুনে সকলে শিউড়ে উঠেছেন রীতিমতো।
নিজের ৭ দিনের সন্তানকেই জলে চুবিয়ে খু’ন করার অভিযোগ উঠল মায়ের বিরুদ্ধে। এই বিষয়টি জানাজানি হতেই ওই মহিলার বাপের বাড়ির লোকজন পুকুরে জাল ফেলে উদ্ধার করে শিশুকে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে শিশুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মহিলার ভাই তার দিদির বিরুদ্ধে খু’নের অভিযোগ দায়ের করেছে।
এমন হাড়হিম করা ঘটনা ঘটেছে পুরুলিয়ার বলরামপুর থানার খয়রাডি গ্রামে। অভিযুক্ত ওই মায়ের নাম মমতা মাহাতো। জানা গিয়েছে, প্রায় আট বছর আগে বলরামপুরের খয়রাডি গ্রামের বাসিন্দা মমতা মাহাতোর সঙ্গে বিয়ে হয় পাড়দ্দা গ্রামের তাপস মাহাতোর। তাদের একটি সাড়ে ছ’বছরের পুত্রসন্তান রয়েছে।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
অভিযুক্ত মহিলার পরিবার সূত্রে খবর, এদিন ওই মহিলা তার সাতদিনের শিশুকে নিয়ে ভোরবেলা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। সকালের দিকেও ফিরে না এলে খোঁজাখুঁজি শুরু করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বাপের বাড়িতেও খবর দেওয়া হয়। সেই সময় বাপের বাড়ি এলাকার এক বাসিন্দা জানান যে তিনি ওই মহিলাকে গ্রামের এক জলাশয়ের সামনে দেখেছিলেন।
মহিলার বাপের বাড়ি লোকজন ছুটে যায় সেখানে। অভিযুক্ত মাকে কোনওক্রমে জলাশয় থেকে তোলেন বাসিন্দারা। এরপরই জানা যায়, সন্তানকে জলে চুবিয়ে দিয়েছেন মহিলা। ওই মহিলার ভাই পুকুরে জাল ফেলে শিশুটিকে তোলে। নিয়ে যাওয়া হয় বলরামপুর বাঁশগড় ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। কিন্তু ততক্ষণ আর দেহে প্রাণ ছিল না একরত্তির। এই ঘটনায় নিজের দিদির বিরুদ্ধে বলরামপুর থানায় খু’নের অভিযোগ দায়ের করেন মহিলার ভাই। তবে অভিযুক্ত মা এখন বেপাত্তা বলে জানা গিয়েছে।
কেন ওই মহিলা নিজের সন্তানকে এভাবে খু’ন করল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এর পিছনে পারিবারিক অশান্তি রয়েছে নাকি অন্য কোনও কারণ, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। একজন মা কীভাবে সন্তানকে খু’ন করতে পারে, তা ভেবেই ভয়ে যেন কাঁটা দিচ্ছে এলাকাবাসীর। সকলেই হতবাক এমন এক ঘটনায়।





