সূচনা হয়ে গিয়েছে দেবীপক্ষের। চারদিকে এখন শুধু চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ঢাকে পড়েছে কাঠি। শহরজুড়ে এখন শুধু আলো আর রোশনাই। দুর্গাপুজোর এই আলো উপভোগ করতে পারেন জেলের অন্ধকার কুঠুরিতে থাকা বন্দিরাও। প্রতি বছরের ন্যায় এই বছর দুর্গাপুজো হচ্ছে প্রেসিডেন্সি জেলে। তবে এবারের পুজোর থিম নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে।
এবারে প্রেসিডেন্সি জেলে পুজোর থিম হল শিক্ষা। নারী সাক্ষরতা ও স্বাস্থ্য, এমন থিমই তুলে ধরা হবে এবারের দুর্গাপুজোয়। এই থিম আর্টের প্রশংসা করেছেন কলকাতা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। তবে যে বিষয় নিয়ে এই থিম নিয়ে এত আলোচনা, তা হচ্ছে এই জেলেই বন্দি রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী থেকে শুরু করে তাবড় তাবড় সব শিক্ষা আধিকারিকরা। শিক্ষা দুর্নীতির জেরেই প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মানিক ভট্টাচার্য, সুবীরেশ ভট্টাচার্যরা। আর সেই জেলেই পুজোর থিম ‘শিক্ষা’ হওয়ায় তা নিয়ে বেশ চর্চা শুরু হয়েছে চারিদিকে।
প্রেসিডেন্সি জেলে আড়াই হাজার বন্দি রয়েছে। কেউ সাজাপ্রাপ্ত আবার কেউ বিচারাধীন। এরাই রয়েছেন জেলের এই পুজোর দায়িত্বে। তবে পার্থ-মানিকরা এই পুজোয় অংশ নিতে পারবেন কী না, তা অবশ্য জেল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। প্রেসিডেন্সিতে ৮টি ব্লক রয়েছে। পুজোতে এই বন্দিদের ভাগ করে করে নানান সময় পুজো প্রাঙ্গণে হাজির করানো হয়। এই জেলেই আবার রয়েছেন সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন, রোজভ্যালি কর্তা গৌতম কুণ্ডু।
কী কী মেনু রয়েছে পুজোর কয়েকদিন প্রেসিডেন্সি জেলে?
জানা গিয়েছে পুজোর সময় প্রেসিডেন্সি জেলে এলাহি খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। পুজোর সপ্তমীর দিন মেনুতে রয়েছে ভাত, মাছের মাথা দিয়ে মুগের ডাল, পাঁচমিশালি সবজি ভাজা, ডিম তরকা, পায়েস, মিষ্টি। অষ্টমীর দিন রয়েছে লুচি, আলুর দম, নবরত্ন, খিচুড়ি, পনির আলু তরকারি, কাবলি ছোলা, মিষ্টি। নবমীতে মটন বিরিয়ানি, মটনকারি, পটল চিংড়ি, ডিমকারি, চিড়ের পোলাও, রুটি, ডাল, মাছ। আর দশমীর মেনু হল ফ্রায়েড রাইস, আলুর দম, পাঁচমিশালি তরকারি, ভাজা, পাঁপড়, চাটনি, মিষ্টি।
প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার দেবাশিস চক্রবর্তী বলেন, “দেবী মায়ের আরাধনা আমরা আমাদের মতো করে করার চেষ্টা করছি। আমরা চেষ্টা করি দুর্গাপুজোকে পেটপুজোয় পরিণত করতে। কারণ বন্দিদের পক্ষে তো আর বাইরে বেরিয়ে ঠাকুর দেখার অধিকার নেই। আটকে থাকা এই চৌহদ্দির মধ্যেই”।





