বিজেপি আগেই জানিয়েছিল, তারা করোনার সংকটজনক পরিস্থিতিতে পুরভোট পিছনোর জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানাবে। এ বার সেই একই পথেই হাঁটতে চলেছে তৃণমূলও। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, WHO বিশ্বজুড়ে মহামারী ঘোষণা করেছে করোনাভাইরাসকে। সবরকম সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই সংকটজনক পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য আসন্ন পুরভোট পিছিয়ে দিতে নির্বাচনের কমিশনের কাছে তারা আর্জি জানাবে বলে জানিয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন আসবে যাবে। কিন্তু সমাজ যখন এমন বিপদের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তখন রাজনীতিকে অবশ্যই পিছনের আসনে সরিয়ে রাখতে হবে। সমাজের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলকে হাতে হাত মিলিয়ে লড়তে হবে।’
কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সৌরভ দাস নিজে উপস্থিত থেকে সোমবার, বেলা তিনটের সময় বৈঠক এই পরিচালনা করবেন। ১০টি জাতীয় এবং আঞ্চলিক স্তরের দলকে ডাকা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি ছাড়াও জাতীয় কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, আরএসপি, সিপিআই, সিপিআইএম সহ দলগুলিকে বৈঠকের জন্য ডাকা হয়েছে। সেই সঙ্গে ১০টি দলের পদাধিকারীকে চিঠি পাঠানো হচ্ছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এবং প্রতিটি দলের দু’জনকে সোমবার নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Statement by All India Trinamool Congress #COVID19 pic.twitter.com/4CCzu4HWIs
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) March 15, 2020
কমিশন সূত্রে খবর, আগামী এপ্রিল মাসেই কলকাতা হাওড়া সহ রাজ্যের শতাধিক পুরসভায় ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হবে। ভোটের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে রাজ্য সরকারকে একাধিক চিঠিও দেওয়া হয়েছে। নিয়মানুযায়ী রাজ্য সরকার পুরভোটের দিনক্ষণ স্থির করে তা কমিশনকে জানিয়ে দেবে। তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে তা ঘোষণা করবে কমিশন। সোমবার সব দলের সঙ্গে কথা বলার পর আগামী সপ্তাহেই পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।
ভোট পিছোনোর কারণ একটা নয় বরং অনেকগুলি। ভোট প্রচার অথবা ভোট গ্রহণ করার সময় প্রচুর মানুষ একসঙ্গে জড়ো হন। ভোটপ্রচার-মিছিল-রাজনৈতিক সভা তো বটেই, এমনকি এই ভোটযজ্ঞে জড়িত থাকেন ভোটকর্মী, নিরাপত্তা কর্মীরা। পুরভোট হবে আর প্রচার হবে না, তা তো হয় না। প্রচার মিছিলই হোক বা জনসভা-সেখানে হাজার, হাজার মানুষ জড়ো হন। করোনার জেরে এই মানুষের জমায়েতেই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
ভোটের আগে থেকে ভোটকর্মী ও নিরাপত্তা কর্মীরা একসঙ্গে যাতায়াত করেন। এক জায়গায় থাকেন, খাওয়া-দাওয়া করেন। একই শৌচালয় ব্যবহার করেন। যেখানে স্কুল, সিনেমা হল-সব বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেখানে এঁরা একসঙ্গে থাকবেন কী ভাবে? করোনার সংক্রমণ রুখতে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানেটাইজার সহ বিভিন্ন জিনিস ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি, ভোটের সময় ভোটকর্মী, বুথকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানেটাইজার দিতে হয়, তাতে ভোটের খরচ বিপুল বেড়ে যাবে। এইসব ঝামেলা সামাল দিয়ে আদৌ হবে তো পুরভোট? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর মিলবে হয়তো সোমবারই।
নবান্ন সূত্রে খবর, করোনা আতঙ্কে সোমবার থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্কুল-মাদ্রাসা বন্ধ রাখা হবে। রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাও বন্ধ থাকবে। তবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নির্ধারিত সূচি মেনেই চলবে। চলবে অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষাও।






