গত বাইশে ফেব্রুয়ারী প্রয়াত হয়েছেন তিন বছরের তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ ও শিক্ষাবিদ কৃষ্ণা বসু। অথচ তাঁর মৃত্যুর পরে সংসদে কোন শোকপ্রস্তাব আনা হয়নি। এই নিয়ে তাই ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁর পুত্র সুগত বসু চিঠি দিলেন লোকসভার অধ্যক্ষকে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সুগত নিজেও তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ।
সুগতবাবু চিঠিতে লিখেছেন, “আমাদের মা কৃষ্ণা বসু টানা তিন বছর লোকসভার সদস্য ছিলেন। এমনকী তিনি বিদেশ সংক্রান্ত বিষয়ে সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানও (১৯৯৯-২০০৪) ছিলেন। তিনি ২২শে ফেব্রুয়ারি মারা গিয়েছেন। এরপর প্রায় দু’সপ্তাহ সংসদে অধিবেশন চলেছে। অথচ লোকসভায় তাঁর জন্য শোকপ্রস্তাব আনা হয়নি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।”
১৯৩০-এর ২৬ ডিসেম্বর পূর্ববঙ্গে জন্ম হয় তাঁর। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর শুরু করেন শিক্ষকতা। প্রায় ৪০ বছর সিটি কলেজে অধ্যাপনা করেছেন তিনি। ওই কলেজে অধ্যক্ষও ছিলেন কৃষ্ণা। যাদবপুর কেন্দ্র থেকে লড়ে টানা তিন বারের লোকসভার সাংসদ হয়েছিলেন কৃষ্ণা বসু। ১৯৯৬-এ কংগ্রেসের হয়ে লড়ে প্রথম বারের জন্য সাংসদ হন। ১৯৯৮ ও ১৯৯৯-এ তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হন তিনি। বিদেশ মন্ত্রকের সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যানও হয়েছিলেন তিনি। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভাইপো চিকিৎসক শিশির বসুর স্ত্রী ছিলেন কৃষ্ণা। তাঁর পুত্র সুগত বসুও ২০১৪-য় তৃণমূলের টিকিটে যাদবপুর থেকে জিতে লোকসভায় গিয়েছিলেন। রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত কৃষ্ণা বসু শিক্ষাবিদও ছিলেন। কৃষ্ণা বসু ‘অ্যান আউটসাইডার ইন পলিটিক্স’, ‘এমিলি অ্যান্ড সুভাষ’, ‘লস্ট অ্যাড্রেসেস’, ‘চরণরেখা তব’, ‘প্রসঙ্গ সুভাষচন্দ্র’, ‘ইতিহাসের সন্ধানে’ ইত্যাদি গ্রন্থের লেখিকা ছিলেন।





