সাহায্যের বিনিময়ে টাকা! বিল বই ছাপিয়ে দলের নামে হাজার হাজার টাকা চাঁদা তুলছে তৃণমূল, প্রবল অস্বস্তিতে শাসক দল

প্রচুর ঋণ হয়ে গিয়েছিল। সেই ঋণ শোধ করার জন্য দোকান বিক্রি করে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন দোকানি। অভিযোগ, সেই দোকান বিক্রির টাকা থেকে তৃণমূলের তহবিলে ৭ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে তাঁকে। সেই চাঁদা তোলার জন্য আবার ছাপানো হ্যেচজে বিল বইও। আর তাতে দলের প্রতীক-সহ রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছে ঘাসফুল শিবির।

কী ঘটেছে গোটা ঘটনাটি?

এই ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার নামখানা ব্লকের শিবরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাধানগর ২৩১ নম্বর বুথে। জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় শাসমলপুর বাজারে একটি দোকান ছিল উৎপল বারিক নামে এক ব্যক্তির। দোকান চালাতে গিয়ে প্রচুর ঋণ হয়ে গিয়েছিল তাঁর। সেই কারণে দোকানটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বিক্রি করেও দেন। তবে সেই বিক্রির টাকা থেকে তৃণমূলকে চাঁদা দিতে হয়েছে তাঁকে।

ব্যবসায়ী জানান, তাঁর ওই দোকান বিক্রির ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে তাঁর থেকে চাঁদা দাবী করে তৃণমূলের লোকজন। প্রথমে তাঁর থেকে দশ হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরে সাত হাজার টাকা দিয়েছেন তিনি। এই টাকা ওই ব্যবসায়ী জানান, এই চাঁদা আদায় করেছেন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য নারায়ণ পড়ুয়ার ভাই পঞ্চানন পড়ুয়া। তিনি এলাকায় তৃণমূল কর্মী নামেই পরিচিত। এমনকি, চাঁদার বিল বইয়ে আদায়কারী হিসেবে পঞ্চানন পড়ুয়া ও বুথ সভাপতি হিসেবে লক্ষ্মীকান্ত পড়ুয়ার সইও রয়েছে বলে খবর।

অভিযুক্ত পঞ্চানন পড়ুয়া এই অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তাঁর কথায়, উৎপলের অনেক দেনা হয়ে গিয়েছিল বাজারে। তিনি তখন তাঁর সেই দোকান বিক্রি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। সেই কারণেই টাকা দিতে চেয়েছিল সে। পঞ্চাননের কথায়, দলের তহবিলের জন্য সেই টাকা নিয়েছেন তিনি।

এই ঘটনায় দলের হস্তক্ষেপ চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মী। এই ঘটনায় নামখানা ব্লক তৃণমূল যুব সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অভিষেক দাস জানিয়েছেন যে ইতিমধ্যেই ওই বুথ সভাপতিকে দলের পক্ষে শোকজ করা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আরও অন্যান্য খবর