রমাপ্রসাদের ভক্তিগীতির জোরেই বন্ধ হয় নরবলি, পুরনো রীতি মেনেই আজও পুজো পান রঘু ডাকাতের মা কালী

ত্রিবেণীর রঘু ডাকাতের কালীবাড়ি শুধুমাত্র ওই এলাকাই নয়, গোটা রাজ্যেই প্রসিদ্ধ। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন এই মন্দিরে এই ডাকাতকালীর দর্শন পেতে। প্রতি বছর পুরনো রীতি মেনেই হয় কালীপুজো। এবছরও কালীপুজোর প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। আগে নরবলি হলেও, এখন তা বন্ধ হয়েছে।

কীভাবে শুরু হল এই পুজো?

সেই সময় ত্রিবেণী ছিল ঘন জঙ্গলে ভরা। বাঘের উৎপাত লেগে থাকত। সেই এলাকায় ছিল রঘু ঘোষ ও বিধুভূষণ ঘোষ নামের দুই ডাকাতের রাজত্ব। তারাই মা কালীর স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। স্বপ্নের মধ্যে মা কালীকে তারা যে রূপে দেখেন, সেই চেহারা অনুযায়ীই তৈরি হয় মা কালীর মূর্তি। কালীকে মাতৃরূপে জ্ঞান করতেন ডাকাতরা। ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে মা কালীকে স্নান করিয়ে পুজো দেওয়া হত। এই সময় নরবলি প্রথা চালু ছিল।

কীভাবে বন্ধ হয় এই প্রথা?

জানা যায়, এক সময় মধ্যপ্রদেশ থেকে ফিরছিলেন সাধক রামপ্রসাদ। ত্রিবেণীতে যাওয়ার সময় রঘু ও বিধু ডাকাতের হাতে ধরা পড়েনতিনি। রামপ্রসাদের কাছে কিছুই ছিল না। সেই কারণে তাঁকে মা কালীর সামনে বলি দেবে ঠিক করে ডাকাতরা। হাড়িকাঠে মাথা দেওয়ার আগে মা কালীর চরণে গান গাওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করেন রমাপ্রসাদ।

রামপ্রসাদ গান শুরু করলে বিহ্বল হয়ে পড়ে রঘু ও বিধু ডাকাত। কথিত রয়েছে, সেই সময় নাকি রামপ্রসাদের মধ্যে মা কালীর মুখ দেখতে পায় ডাকাতরা। এমন অলৌকিক ঘটনার পর কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে তারা। সেই অনুশোচনায় রামপ্রসাদের বলি হয়না। শুধু রমাপ্রসাদই নয়, সেই থেকেই সেখানে বন্ধ হয়ে যায় নরবলি প্রথা।

মন্দিরের সেবাইত সুমন চক্রবর্তী বলেন, “৫০০ বছরের বেশি পুরনো এই পুজো। নরবলি বন্ধ হলেও শনি ও মঙ্গলবার এবং অমাবস্যায় ছাগ বলি হয়। মন্দিরে নিত্য পুজো হয়। কালীপুজোর দিন সকাল আটটা থেকে ভক্তদের পুজো দেওয়া শুরু হয়। দুপুরে খিচুড়ি, ভাজা, তরকারি দিয়ে ভোগ। দুপুরে মন্দির খুলে দেওয়া হয়। রাতের ভোগে বলির পাঁঠার মাংস, লুচি, খিচুড়ি, নাড়ু ও ল্যাঠা মাছ পোড়া”।

RELATED Articles