বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের সিন্ডিকেটের কারণে কোণঠাসা জেলার বিজেপি কর্মীরা, প্রমাণ দিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন অনুপম, নিশানা সুকান্তকেই?

দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে এর আগেও একাধিকবার কথা বলেছেন তিনি একাধিকবার ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপর। এবারও তেমনটাই করলেন। জেলায় জেলায় বিজেপি কর্মীরা কিভাবে কোণঠাসা হচ্ছেন, কীভাবে তাদের বসিয়ে রেখে কোনও কাজ করানো হচ্ছে না, সেকথাই এবার তুলে ধরলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা।

আজ বীরভূমের খয়রাসোলে বিজেপির আয়োজন করা বিজয়া সম্মীলনীতে যোগ দিতে যান অনুপম হাজরা। সেখানে যাওয়ার পথেই সোশ্যাল মিডিয়া লাইভ করে বীরভূমের বিজেপির নেতৃত্ব দিকে আঙুল তুলে একাধিক অভিযোগ আনলেন তিনি। লাইভে তিনি জানান, বীরভূমের কার্যকর্তারা তাঁকে জানিয়েছেন কিভাবে সেখানে দলীয় কর্মীদের কোণঠাসা করে রাখছেন সেখানকার নেতৃত্ব।

এই নিয়ে বীরভূমের দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহা ও বীরভূমের বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন তিনি। তাঁর কথায়, অনুপ সাহা রাজ্য বিজেপি সভাপতি ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাঁর করা প্রতিটি অন্যায় মুখ বুঝে মেনে নেয় বঙ্গ বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। অনুপম জানান, এই অনুপ সাহা আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক। সেই কারণে রাজ্য বিজেপি সভাপতিকে বেশ ‘তৈলমর্দন’ করে থাকেন তিনি। তবে তাঁকে প্রার্থী করতে মোটেই সায় নেই অনুপম হাজরার। আর সেই কারণে তার উপরে বেশ রাগ অনুপের।

অনুপম জানান, এই অনুপ সাহা ঘনিষ্ঠ বীরভূম বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা প্রতিনিয়ত অনুপমের বিরুদ্ধে নানান কদর্য কর্মকাণ্ড করতে থাকেন। এমনকি, আজকে এই বিজয়া সম্মিলনীতে অনুপম যাতে যোগ দিতে না পারেন, সেই চেষ্টাও করেছেন এই ধ্রুব সাহা। সেই কারণে বিজয়া সম্মিলনীর জন্য যে লজটি ভাড়া নেওয়ার কথা ছিল, তা নেওয়া হয় না। ফলে শেষমেষ ট্রাক্টরের উপর বিজয়া সম্মিলনীর সিদ্ধান্ত নেন সেখানকার দলীয় কর্মীরা।

অনুপম জানান, শুধুমাত্র বীরভূমের দলীয় কর্মীরাই নন, তিনি নিজেও দলে একরকম কোণঠাসাই। বেশ হতাশা প্রকাশ করেই তিনি বলেন, তাঁকে দলীয় কোনও অনুষ্ঠানে ডাকা হয় না। আর ডাকা হলেও সেটা এমন সময় তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, যখন তাঁর পক্ষে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না।

এরপরই বিজেপি রাজ্য সভাপতি অর্থাৎ সুকান্ত মজুমদারকে উদ্দেশ্য করে অনুপম বলেন, তিনি যাতে নিজের সংসদীয় এলাকায় মন দেন। কারণ নিজের সংসদীয় এলাকায় তাঁর যা অবস্থা হয়েছে, হয়ত আসন্ন লোকসভা ভোটে নিজের এলাকা থেকে জিততেই পারবেন না তিনি।

প্রসঙ্গত, এই প্রথমবার নয়, এর আগেও সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন অনুপম হাজরা। সুকান্ত যখন দলীয় কর্মীদের বরখাস্ত করার হুঁশিয়ারি দেন, তার বিরোধিতা করেছিলেন অনুপম। আর এবার বিজেপির বঙ্গ বিজেপির অন্দরে সিন্ডিকেট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক।

RELATED Articles