‘শুভেন্দুকে চোর-চিটিংবাজ না বললে তৃণমূলের সৈনিক হওয়ার দরকার নেই’, বিতর্কিত মন্তব্য কুণালের

একে অপরের প্রতিপক্ষ তারা। নানান ইস্যুতেই একে অপরকে শানাতে কসুর করেন না কেউই। এবার ফের একবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে মন্তব্য করলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। শুভেন্দুকে গালিগালাজ না করলে তৃণমূলের সৈনিক হওয়ার কোনও অধিকার নেই, এমনটাই দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে জানালেন তিনি।

ঠিক কী বলেছেন কুণাল?

গতকাল, সোমবার তমলুকের নিমতৌড়িতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের তরফে বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন কুণাল ঘোষ। এই সভা থেকেই তিনি বলেন, “২০ মিনিট বক্তৃতা হয়ে গেল এলাকায়, অথচ শুভেন্দুর নাম পর্যন্ত উচ্চারিত হল না। এমন বক্তা রাখবেন না। এর অর্থ ওনারা পাঁচিলে বসে আছেন। দাঁড়িয়ে যদি শুভেন্দুকে চোর, চিটিংবাজ, জালিয়াত না বলতে পারেন, পূর্ব মেদিনীপুরে আজকের দিনে তাঁর সৈনিক হওয়ার কোনও অধিকার নেই”।

রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটের আগে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দায়িত্ব যায় কুণাল ঘোষের উপর। এরপর থেকেই প্রায়ই এই জেলায় আসেন তিনি। সামনেই লোকসভা নির্বাচন। পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি ও তমলুকের দিকে বিশেষ নজর রয়েছে ঘাসফুল শিবিরের। সেই দু’টি কেন্দ্র হাতছাড়া করতে নারাজ তৃণমূল। সেই প্রস্তুতিই চলছে এখন।

এর আগে বিধানসভা ও পঞ্চায়েত ভোটের আগে চাটাই বৈঠক করে বেশ সুফল মিলেছে বলে জানান কুণাল। বলেন, “আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগেও চাটাই বৈঠকের মধ্যে দিয়ে জেলার দু’টি লোকসভা আসন গদ্দারদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে শিক্ষা দিতে হবে”। গতকালের এই সভায় কুণাল ঘোষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী বিপ্লব রায় চৌধুরী, বিধায়ক ফিরোজা বিবি, সৌমেন মহাপাত্র, তিলককুমার চক্রবর্তী, সুকুমার দে, তমলুক সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান চিত্ত মাইতি, সভাপতি অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়রা।

কুণালের মন্তব্যে কী প্রতিক্রিয়া বিজেপির?

কুণালের এহেন মন্তব্যে তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ সভাপতি দেবব্রত পট্টনায়ক বলেন, “উনি জেলে থেকেছেন। এখন উনি বলছেন শুভেন্দু অধিকারীকে গালাগাল করলে পদ পাবে। আসলে তৃণমূলের পরিচয়ই তো বিরোধীদের খারাপ কথা বলে টিকে থাকা”।

আরও অন্যান্য খবর