পোষ্য বিড়াল উঠে পড়েছিল কার্নিশে। আটকা পড়ে যায় সে। তাকে বাঁচাতে গিয়েই ৮ তলা থেকে পড়ে গেলেন মালকিন। পোষ্যকে বাঁচাতে প্রাণ হারালেন মহিলা। এমন আকস্মিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা আবাসন।
কী ঘটেছিল ঘটনাটি?
মৃতার নাম অঞ্জনা দাস। বয়স বছর ৩৬। বাড়ি শরৎ বোস রোডে। মাস দুয়েক ধরে লেক অ্যাভিনিউ এলাকার একটি বহুতলে মাকে নিয়ে থাকছিলেন ওই মহিলা। জানা গিয়েছে, গত রবিবার সন্ধ্যা থেকেই পোষ্য বিড়ালটিকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। চারিদিক খুঁজেও কোনও খোঁজ মেলেনি। সোমবার সকাল হতেই মহিলা দেখেন তাঁর পোষ্যটি কার্নিশের উপত আটকা পড়ে রয়েছে।
পোষ্যটিকে উদ্ধার করতে ছাদে চলে যান মহিলা। ছাদ থেকে কার্নিশ বেয়ে নামেন। কিন্তু মালকিনকে দেখে বিড়ালটি এক কার্নিশ থেকে অন্য কার্নিশে লাফ দেয়। মহিলা লাফাতে গিয়ে দুই কার্নিশের ফাঁক দিয়ে আট তলা থেকে নীচে পড়ে যান। মাথা-মুখ থেঁতলে যায় মহিলার।
উপর থেকে এমন ঝপ করে কিছু পড়ার শব্দ শুনতে পেয়ে ছুটে আসেন আবাসনের বাসিন্দা ও স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। সঙ্গে সঙ্গে অঞ্জনাকে উদ্ধার করে এমআর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা জানান যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয়েছে ওই মহিলার। তাঁর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ।
কী জানান প্রতিবেশীরা?
প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন, বেশ কয়েকটি পোষ্য ছিল অঞ্জনা দাসের। তাদের প্রতি অত্যন্ত দুর্বল ছিলেন তিনি। পোষ্যদের দেখাশোনা করেই সময় কাটত তাঁর। যে বিড়ালটিকে উদ্ধার করতে গিয়ে মালকিনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু হল, সেই বিড়ালটিকে মাত্র দেড় মাস আগে আনা হয়েছিল। সেই বিড়ালের প্রতি দুর্বলতাই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াল অঞ্জনার।






