আজ, বুধবার ধর্মতলায় ছিল বিজেপির মেগা সভা। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন তাঁর বক্তব্যে প্রথম থেকেই তিনি আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দুর্নীতির পাশাপাশি রাজ্যে অনুপ্রবেশের ইস্যু নিয়েও এদিন বাংলার শাসক দলকে একহাত নিয়েছেন অমিত শাহ। তাঁর স্পষ্ট কথা, CAA কেউ আটকাতে পারবে না।।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আগে মতুয়াদের নাগরিকত্বের আশ্বাস দিয়েছিল বিজেপি। সেই আশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই মতুয়াদের একটা বড় অংশের ভোট যায় গেরুয়া শিবিরে। ক্ষমতায় ফিরে সংসদে সেই আইনও পাশ করানো হয়। এই নিয়ে প্রতিবাদ করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। কিন্তু করোনা কালে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
বছর গড়ালেই লোকসভা নির্বাচন। এবার এই CAA নিয়ে গেরুয়া শিবির বেশ বিব্রত, এমনটাই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। এখনও পর্যন্ত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ না হওয়ায় রাজ্যের মতুয়াদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে শুরু করেছে।
এমন আবহে এবার আজ ধর্মতলায় সভামঞ্চ থেকে CAA নিয়ে মতুয়াদের আশ্বাস দিয়ে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বললেন, “আমি এই সভা থেকে বলে যাচ্ছি CAA হল একটি আইন। একে কেউ রুখতে পারবে না”।
উদাহরণ হিসেবে অসমের প্রসঙ্গ টেনে অমিত শাহ বলেন, “অসমে বিজেপি সরকার হয়েছে। সেখানে অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়েছে। আর এখানে ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করা হয়েছে। যেখানে ৩০ লক্ষ ভুয়ো অনুপ্রবেশ ঘটে সেখানে বিকাশ সম্ভব”?
অন্যদিকে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশ হওয়ার পর থেকেই এর বিরোধিতা করে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ ঘোষণা করে দিয়েছেন, রাজ্যে এই আইন কার্যকর হবে না। বারবার বঙ্গবাসীর উদ্দেশে মমতা বলেছেন, “সিএএ নিয়েও চিন্তা করবেন না। আমি বাংলার মানুষের পাশে আছি। এ মাটি আমাদের। বাইরের কে কী বলল, তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না”।
তবে শাহ্’র বক্তব্য, “রাজ্যে অনুপ্রবেশে উসকানি দিচ্ছে তৃণমূল। সেকারণেই CAA কার্যকর করতে চান না মমতা। কিন্তু এটা দিল্লির আইন। চেষ্টা করলেও এটাকে রুখতে পারবেন না”। শরণার্থীদের উদ্দেশে এদিন অমিত শাহ বলেন, “এ দেশের একজন হিন্দু নাগরিকের যতটা অধিকার। শরণার্থীদের অধিকারও ঠিক ততটাই”।






