কোনও ওষুধ কোনও চিকিৎসা লাগবে না, শুধুমাত্র জল খেলেই সেরে যাবে ক্যানসারের মতো মারণ রোগও। আর বিশ্বাস থেকেই বিশেষ শিবিরে ভিড় জমাচ্ছেন কাতারে কাতারে মানুষ। প্রশাসন ও বিজ্ঞান মঞ্চের তরফে আমজনতাকে বারবার সচেতন করা সত্ত্বেও কেন এমন ঘটনা বারবার ঘটছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। মানুষ কী সচেতন হবে?
কী ঘটেছে গত ঘটনাটি?
এই ঘটনাটি ঘটেছে বালুরঘাটে। জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরে বালুরঘাটের ত্রিমোহিনী এলাকার হাই স্কুল মাঠে একটি প্যান্ডেল করে শিবির তৈরি করা হয়েছে। এই শিবিরের নাম ‘মুক্তির পথ চাঙ্গাই’। জানা গিয়েছে, অন্য রাজ্যের বাসিন্দারা এই শিবির চালাচ্ছেন। আর সেখানেই চিকিৎসা চলছে অর্শ, ক্যানসার, দাঁত, চোখ যাবতীয় রোগের।
না, তবে কোনও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না রোগের জন্য। ওষুধের বদলে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ জল। সেই বিশেষ জল খেলেই কমে যাবে সমস্ত মারণ রোগও। এই শিবিরে প্রবেশমূল্য ৩০ টাকা। দিনভর মাইকিং করে চলছে শিবিরের প্রচার। আর কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে সেই শিবিরে ভিড়ও জমাচ্ছেন মানুষ। শুধুমাত্র সেই এলাকাই নয়, আশেপাশের জেলা থেকেও সেই শিবিরে আসছেন লোকজন।
জানা গিয়েছে, যারা এই শিবিরে আসছেন, তাদের মধ্যে বেশীরভাগই সমাজের পিছিয়ে পোড়া শ্রেণীর মানুষ। এই জলের বিষয়ে মালদহের বাসিন্দা মহম্মদ সিরাজ জানান, তাঁর ছেলের শরীর অসার। তার শরীর সম্পূর্ণ ঠিক হয়ে যাবে এই আশা নিয়েই সেখানে গিয়েছেন তিনি। আবার হিলির বাসিন্দা বিকাশ রায় জানান, বিশ্বাস থেকেই সেখানে গিয়েছেন তিনি।
এই কর্মকাণ্ডের আয়োজকদের এক কর্মকর্তা ইনোসেন্ট সোরেন জানান, “কোনও পয়সা লাগছে না। আমরা ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর ভর করে মানুষের সেবা করছি। অনেকে ভাল হচ্ছেন”। প্রশাসন ও বিজ্ঞানমঞ্চের তরফে এত সচেতনতার বার্তা দেওয়া সত্ত্বেও এই ঘটনা ঘটেই চলেছে, যার জেরে একাধিক প্রশ্ন তুলে উঠেছে স্বাভাবিকভাবেই।






