অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার, মেনুতে বলা থাকলেও নেই ডিম, সুগারের রোগীকেও মিষ্টি, খাবার নিয়ে ভয়ঙ্কর অভিযোগ রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে

সরকারি হাসপাতালে খাবারের মান নিয়ে এর আগেও নানান অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের নিম্নমানের খাবার দেওয়া, পুষ্টিকর খাবার না দেওয়া এমন নানান ঘটনা এর আগেও ঘটেছে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে। এবার ফের তেমনই ঘটনা ঘটে চলেছে দীর্ঘদিন ধরে।

মেনুতে ডিম লেখা থাকলেও পাতে ডিম পড়ে না। আর মাছের যে পিস দেওয়া হয়, তা ঠিকভাবে চোখেই দেখা যায় না। সকালে, দুপুরে, রাতে মেনুতে যে খাবারের তালিকা রয়েছে, তা মেনে খাবার দেওয়া হচ্ছে না রোগীদের। এমনই অভিযোগ করেছেন হাসপাতালের রোগীদের পরিজনরা।

কী ঘটেছে ঘটনাটি?

রোগীদের এমন খাবার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমুণ্ডি গ্রামীণ হাসপাতালে। অভিযোগ, হাসপাতাল চত্বরে বড় বড় করে হাসপাতালের রোগীদের জন্য মেনু লেখা রয়েছে বটে কিন্তু সেই মেনু অনুযায়ী দেওয়া হয় না খাবার।  

কী খাবার দেওয়া হচ্ছে?

রোগীর পরিজনরা জানাচ্ছেন, সকালে দেওয়া হচ্ছে তিন পিস পাউরুটি, একটি ছোট মিষ্টি ও একটি কলা। নেই দুধ ও ডিম। দুপুরে রোগীদের দেওয়া হয়েছে সাদা ভাত, কোয়াশের ঝোল ও ছোট একপিস মাছ। দুপুরের মেনুতে নেই ডাল ও মিক্সড সবজি। কিন্তু সরকারি গাইডলাইন অনুযায়ী, সকালে ২৫০ মিলি লিটার দুধ, সিদ্ধ ডিম একটি, ৫০ গ্রাম পাউরুটি, একটি কলা দেওয়ার কথা। দুপুরে দেওয়ার কথা ভাত, ডাল, পাঁচমিশালি সবজি ও মাছ। রাতের মেনুতে চারটি রুটি, ডাল, মিক্সড সবজি, ডিম ভাজা দেওয়ার কথা। কিন্তু তেমন খাবার দেওয়া হচ্ছে না হাসপাতালে।

রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের আধিকারিকরা ঠিকভাবে নজরদারি করছেন না, সেই কারণেই তালিকা অনুযায়ী খাবার দেওয়া হচ্ছে না। হাসপাতালের তরফে জানানো হচ্ছে, ২০১১ সাল থেকে আকচা মহামিলন সংঘ এই হাসপাতালে খাবার দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছে। এই ঘটনা সামনে আসার পর ওই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এই খাবার নিয়ে রোগীর এক আত্মীয় বলেন, “আমার আত্মীয় জ্বর নিয়ে ভর্তি রয়েছেন। সকালে ক্যান্টিনে খাবার নিতে গিয়ে পেলাম তিন পিস পাতলা পাউরুটি, একটা মিষ্টি ও একটা কলা। আমার সুগারের রোগী হাসপাতালে রয়েছে। তাহলে সুগারের রোগীরা কী করে মিষ্টি খাবে? ডিমের কোনও বালাই নেই। একদম নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে”।

এই বিষয়ে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাস বলেন, “আমি এই নিয়ে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেছি। শুনেছি ২০১১ সাল থেকে একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী রোগীদের খাবার দিয়ে আসছে। এই নিয়ে ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে”।

RELATED Articles