পুলিশের সামনেই দফায় দফায় গুলি, বোমাবাজি, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে উত্তপ্ত গোটা এলাকা, আতঙ্কিত তৃণমূল কাউন্সিলর নিজেই

ফের একবার প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ। পুলিশের সামনেই চালানো হয় গুলি, হয় বোমাবাজি। আতঙ্কিত খোদ তৃণমূল কাউন্সিলর। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এই ঘটনায় ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

কী ঘটেছে ঘটনাটি?

এই ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানার ধুলিয়ান পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। গতকাল, সোমবার রাতে প্রবল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এই এলাকা। দফায় দফায় বোমাবাজি হয় বলে অভিযোগ। চলে কয়েক রাউন্ড গুলিও। অশান্তির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন সামশেরগঞ্জ থানার নবনিযুক্ত ওসি অভিজিৎ সরকার।

কিন্তু অভিযোগ, পুলিশের সামনেই দফায় দফায় বোমা বিস্ফোরণ হয়। কেঁপে উঠে গোটা এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায় গোটা এলাকায়। স্থানীয় কয়েকজন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে বোমাবাজি, গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবী, এই দুষ্কৃতীরা ধুলিয়ান পৌরসভার চেয়ারম্যান ঘনিষ্ঠ।

কী জানাচ্ছেন স্থানীয়রা?

এই ঘটনায় স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “চেয়ারম্যানের আত্মীয়রা এসে ঝামেলা করেছে। যাদের উপর হামলা তারাও তৃণমূলই করে। কিন্তু ৪ নম্বর থেকে ৮ নম্বরে এসে ঝামেলা করেছে। এরকম আমাদের এখানে কোনওদিন হয়নি”।

এমন ঘটনায় বেশ আতঙ্কিত ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পারভেজ আলম। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের সামনে বোমাবাজি হয়েছে। তিনি জানা যে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি বলেন, “এখানে একটা ঝামেলা হয়, ধস্তাধস্তি হয়। চেয়ারম্যানের খুড়তুতো ভাই এসেছিল এখানে। আমি ওকে বললাম আমাদের এলাকার লোককে আমি দেখছি, তুই তোদেরটা বুঝে নে। পরে চেয়ারম্য়ানের সঙ্গে কথা বলে মীমাংসা করা হবে। এরপরই এলাকায় বোমাবাজি শুরু হয়। গুলি চলে”।

এলাকায় সিভিক ভলান্টিয়ারের ক্য়াম্প থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কাউন্সিলর। তাঁর প্রশ্ন, “আমি জনপ্রতিনিধি। আমার বাড়ির সামনে এসব হলে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? যারা হামলা করেছে সকলে আমাদের চেয়ারম্যানের আত্মীয়। কোন দলের লোক জানি না, ওনাদের আত্মীয় জানি। ৪ নম্বর থেকে সব এসেছে”। এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে চেয়ারম্যানের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

RELATED Articles