দুয়ারে রেশন নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। রেশনে নিম্নমানের সামগ্রী দেওয়ার অভিযোগ আগেও উঠেছে। এবারও তেমনই এক ঘটনা ঘটেছে। তবে এবার রেশনে পাওয়া সামগ্রী বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল গ্রাহকদের বিরুদ্ধেই। তাদের দাবী, চাল-আটার মান এত খারাপ যে খাওয়া যায় না, তাই তারা বিক্রি করে দেন সেই সামগ্রী। তাদের ধরে ফেললেন তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির বলাগড়ের শেরপুর এলাকায়। গ্রামের মাঠে চলছিল দুয়ারে রেশন কর্মসূচি। গ্রাহকরা রেশন তুলে সেখানেই ফড়েদের বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এদিন এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। এই ঘটনা নিজের চোখে দেখেন তিনি। এরপরই পুলিশকে ফোন করেন। বলাগড় থানার পুলিশ এসে সেই চাল-আটা বাজেয়াপ্ত করে।
এদিন বিধায়ককে সামনে পেয়ে গ্রাহকরা বলতে শুরু করেন, “চাল আটা অনেকেই বিক্রি করে দেয়। রেশনে দেওয়া জিনিস খাওয়া যায় না। তাই আমরা বিক্রি করে দেই। ফড়েরা কিনে নিয়ে আমাদের টাকা দেয়। সেই টাকায় বাইরে থেকে কিনে খাই”।
কী বলছেন বিধায়ক?
মনোরঞ্জন ব্যাপারীর কথায়, “গরীব মানুষের জন্য রেশন দেওয়া হয়। সেই চাল আটা বিক্রি কেন হবে? আজ শেরপুরে এসে দেখলাম অভিযোগ সত্যি। যদি চাল আটার মান এতই খারাপ হয়, যে না খেয়ে বিক্রি করে দিতে হবে,তাহলে রেশন নেওয়ার দরকার নেই। আমি নিজে এই চাল আটা খাই”।
রেশন থেকে কাজলী দাস নামে এক মহিলা চাল আটা কিনছিলেন। তিনি বলেন, “রেশন থেকে কোনও মাল কিনি না। গ্রাহকরা রেশন তুলে বিক্রি করে সেটা কিনি। আমি নিজেও তৃণমূল কর্মী। কিন্তু দল থেকে কোনও সাহায্য পায়নি তাই এই কাজ করি”।
দলের কর্মীই রেশনের মাল কিনছে শুনে বিরক্ত হন বিধায়ক। তাঁকে উদ্দেশ করে বলতে থাকেন, “দল কি তোমাকে চুরি করতে বলেছে”।
এই প্রসঙ্গে রেশন ডিলার বাচ্চু মুখোপাধ্যায় বলেন, “দুয়ারে রেশন নেওয়ার পর গ্রাহকরা কী করছেন, সেটা তাঁদের ব্যাপার। দেখি অনেকেই চাল আটা বিক্রি করে দেন। এর সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই”।





