১০০০ দিনের নেশি সময় ধরে রাস্তায় বসে তারা। অনেক অনেক প্রতিশ্রুতির কথা শুনেছেন কিন্তু চাকরিটা আর হয়নি। আদালতের দ্বারে ঘুরে ঘুরে এখন তারা ক্লান্ত। আইনে জটে আটকে রয়েছে নিয়োগ। সুপারিশপত্র পেলেও নিয়োগপত্র আর হাতে আসেনি। এমন অবস্থায় এবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়ি হাজির হলেন এসএলএসটি চাকরিপ্রার্থীরা।
আজ, বুধবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ সল্টলেকে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে উপস্থিত হন ২০১৬ সালের এসএলএসটি-র চাকরিপ্রার্থীরা। তাদের হাতে ছিল ব্যানার। তাতে লেখা ‘উনি ভগবান’, ‘আমাদের উদ্ধার করুন’। বাড়ির সামনে হাত জোড় করে বসে নিয়োগের আর্জি জানাতে থাকেন। হাউহাউ করে কেঁদে ফেলেন একাধিক চাকরিপ্রার্থী। বিচারপতির বাড়ির সামনের পুলিশবাহিনী প্রথমে তাদের আটকায়। চাকরিপ্রার্থীরা জানান, বিচারপতি অনুমতি দিলে তাদের দুজন প্রতিনিধি তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। এরপর দেখা করার জন্য বাড়ির নীচে আসেন বিচারপতি।
কী বললেন এদিন বিচারপতি?
এদিন বিচারপতিকে সামনে দেখে নিজেদের সমস্যার কথা বলেন চাকরিপ্রার্থীরা। সব শুনে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, কেন আদালতে যাচ্ছেন না তারা? চাকরিপ্রার্থীদের আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি পরামর্শ দেন, প্রার্থীরা যাতে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেন।
এর উত্তরে কী জানান চাকরিপ্রার্থীরা?
এ কথা শুনে এক চাকরি প্রার্থী বলেন, “টাকা কোথা থেকে জোগাড় করব বলুন। এত টাকা কোথায়”? এরপর বিচারপতি পরামর্শ দেন, টাকা না থাকলে আদালতের লিগাল এইড-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে। সেখানে আইনজীবীরা নিখরচায় আইনি পরামর্শ দেন।
চাকরিপ্রার্থীদের বিচারপতি আরও বলেন, “আমি শুধুমাত্র আপনাদের সহানুভূতি জানাতে পারি। আমার কাজের একটা সীমাবদ্ধতা আছে। গণ্ডীর বাইরে তো আমি যেতে পারব না। আপনাদের সঙ্গে দেখা করারও কথা নয় আমার। শুধুমাত্র আপনাদের প্রতি সহানুভূতিশীল বলেই দেখা করেছি। আমি শুধু পরামর্শ দিতে পারি”।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিচারপতি বলেন, “যাঁরা এতদিন ধরে রাস্তায় বসে আছেন, তাঁরা আদালতে যাচ্ছেন না কেন। ওখানে না বসে থেকে আদালতে চলে আসুন না। ১০০০ দিন ধরে রাস্তায় বসে থেকে কী হবে”।





