নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজ্যে বিতর্কের অন্ত নেই। চাকরির দাবী নিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে রাস্তায় বসে আন্দোলন করছেন চাকরিপ্রার্থীরা। অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু চাকরি মেলেনি। এসবের মাঝেই এবার চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।
দুর্নীতি ইস্যু নিয়ে বিদ্ধ রাজ্য সরকার। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বর্তমানে জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জেলে রয়েছেন রাজ্যের শিক্ষা দফতরের একাধিক আধিকারিক। এমন পরিস্থিতিতে রাস্তায় বসে আন্দোলন করছেন চাকরিপ্রার্থীরা। গতকাল, বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে জেলা বইমেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। এই অনুষ্ঠানেই তিনি বলেন, “সবাইকে চাকরি করতে হবে এর কোন মানে আছে? সবাই চাকরি করলে ক্ষেতমজুরি করবে কে”?
বেনিয়মে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে একাধিক। কেউ কেউ সাদা খাতা জমা দিয়েও চাকরি পেয়েছেন, তো কেউ আবার ২-৩ নম্বর পেয়েও পেয়েছে চাকরি। আর বাদ পড়েছেন যোগ্য প্রার্থীরা। তারা আজ বছরের পর বছর ধরে রাস্তায় বসে আন্দোলন করছেন।
আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “বাম জমানায় প্রতারিত করা হয়েছে, আমাদের সরকার চাকরি দিয়েছে, প্রতারণা করেনি। রাজ্য সরকার প্রকৃত পক্ষে চাকরি দিচ্ছে। তাই সকলের লোভ হচ্ছে, সবাই চাকরি পাচ্ছে আমরাও চাকরি পাব। তার আগে লাইনে দাঁড়ান তবেই তো চাকরির টিকিট মিলবে”।
রাজ্যের মন্ত্রীর এহেন মন্তব্যকে কটাক্ষ করেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র এই বিষয়ে বলেন, “এ রাজ্যে যারা প্রকৃত চাকরির দাবিদার, তাঁদের চাকরি তৃণমূল কংগ্রেস চুরি করেছে। যোগ্য ব্যক্তিদের চাকরি দেয়নি। তারপরও বড় বড় কথা”।
তাঁর সংযোজন, “একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রকে আক্রমণ করছে, কেন্দ্র নাকি চাকরি দিচ্ছেনা। অথচ তৃণমূলের মন্ত্রী বলছেন সবার চাকরির দরকার নেই। ওনারা আগে নিজেদের স্ট্যান্ড ঠিক করুন যে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন কীভাবে হবে”?
অন্যদিকে, এই বিষয়ে তৃণমূলের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সিদ্দিকুল্লাহ যা বলেছেন, তা ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই”।





