আজ, ৫ জুলাই, প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করতে চলেছেন বলিউড অভিনেতা আমির খান। এটি তাঁর তৃতীয় বিয়ে হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিনোদন জগতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই আলোচনা মূলত কৌতূহল ও শুভেচ্ছাকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তেমন কটাক্ষ বা আক্রমণের ছবি দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে টলিউডে একই ধরনের পরিস্থিতিতে একেবারেই ভিন্ন ছবি দেখা যায়। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কাঞ্চন মল্লিক এবং শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের মতো তারকাদের একাধিক বিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কাঞ্চন মল্লিক ও শ্রীময়ী চট্টরাজ মল্লিকের বিয়ে নিয়ে এখনও নানা আলোচনা ও কটাক্ষ চলতে দেখা যায়। এই দুই ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে এমন পার্থক্যের কারণ কী, সেই প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন শ্রীময়ী।
শ্রীময়ীর মতে, “আমার মতে, বলিউডের তারকারা ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে রাখতে পারেন। তাঁরা বেশিরভাগ সময়ই গোপনীয়তা বজায় রাখেন। কিন্তু আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কে কখন কী করছে? একে অন্যের নামে যা তা কথা বলা, এসব চলতেই থাকে। আর সমাজমাধ্যমে যাঁরা নোংরা চর্চা করেন, তাঁরা নেটিজেন নন, তাঁরা এক কথায় অসভ্য।” তাঁর বক্তব্য, বলিউডের তারকারা ব্যক্তিগত পরিসরকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেন এবং সেই সীমারেখা বজায় রাখতে সক্ষম হন। কিন্তু টলিউডে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অকারণ চর্চা এবং একে অপরকে নিয়ে মন্তব্য করার প্রবণতা অনেক বেশি বলেই তাঁর দাবি।
এরপর সমাজমাধ্যমে সমালোচনার কারণ নিয়েও নিজের মত প্রকাশ করেন শ্রীময়ী। তিনি বলেন, “এখন বেকারত্বের সংখ্যা অনেক বেশি। কাজ নেই তাই বসে বসে সমালোচনা করেন। আমি তো কোন ছাড়, মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীকেই ছাড়ছে না! কে কী করল, কে ক’টা বিয়ে করল? কার ক’টা বাচ্চা হল? এসব নিয়ে চর্চা চলতেই থাকে। বলিউড এসব করতে সাহসই দেয় না। আমি তো দেখেছিলাম রানি মুখার্জি একটা সময় পর্যন্ত মেয়ের মুখ দেখাননি। এখন এই রুলটা অনেক সেলেব্রিটিই ফলো করছে। ওরা এটাকে ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য বলে, আমরা সেটা নিয়েই হাজারটা আলোচনা সভা বসাই।” তাঁর মতে, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান করার সংস্কৃতি বলিউডে বেশি থাকলেও টলিউডে সেই জায়গায় এখনও অনেক ঘাটতি রয়েছে।
শুধু সোশ্যাল মিডিয়া নয়, ইন্ডাস্ট্রির অন্দরেও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা হয় বলেও জানান শ্রীময়ী। তাঁর কথায়, “আমি তো ধারাবাহিক করি। আপনি ভাবতে পারবেন না, মেকআপ রুমে কী কী আলোচনা হয়। এক একজন সিনিয়র আর্টিস্ট যেভাবে অন্যদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে, ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে কাটাছেঁড়া করেন, যেন মনে হয় সেখানেই আদালত বসে গিয়েছে।” তিনি মনে করেন, অনেক সময় সহকর্মীরাও অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত আগ্রহ দেখান, যা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তাঁর মতে, একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিচার করার অধিকার অন্য কারও নেই।
আরও পড়ুনঃ আগু’নে পু’ড়ছে কলকাতা! প্রথম পোস্টারেই উত্তেজনা তুঙ্গে! প্রতিবাদ আর সত্যের লড়াই নিয়ে, কোন বাস্তব ঘটনার গল্প বলবে ‘দ্য ক্যালকাটা ফাইলস’? কবে মুক্তি, কারা থাকছেন মুখ্য ভূমিকায়?
সবশেষে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শ্রীময়ী বলেন, “সাধারণ মানুষরাও তো অনেকগুলো প্রেম করে, বিয়ে করে। তাঁদের নিয়ে কথা বলার কেউ নেই। কিন্তু আমরা নিজেদের মতো করে ভাল থাকার উপায় খুঁজতে গেলেই যত দোষ। আজ আমির খানের তৃতীয় বিয়ে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল, এটাই ফারাক।” তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে যেমন তেমন আলোচনা হয় না, কিন্তু তারকাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন হয়ে যায়। তাই আমির খানের তৃতীয় বিয়ে নিয়ে যেখানে মূলত আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, সেখানে টলিউডের তারকাদের একই পরিস্থিতিতে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় বলেই তাঁর দাবি।






