ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা অভিষেক বোস। নেতাজি ধারাবাহিকের নেতাজি চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বর্তমানে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছেন। সেই অভিনেতা অভিষেক বোস এর সাথেই অভিনেত্রী দিয়া মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্ক ছিল সর্বজনবিদিত। কিন্তু হঠাৎ করেই তার সাথে বিচ্ছেদ হয়। এবং কিছুদিনের মধ্যেই নতুন সম্পর্কে আসেন অভিষেক। প্রেমিকার সাথে ইনস্টাগ্রামে ছবিও পোস্ট করেছেন অভিষেক। সুরভি মল্লিকের সাথে সম্পর্কে আছেন তিনি।
টলিউডের ছোটপর্দার মধ্যে তিনি নাচ গান অভিনয় প্রায় সব ক্ষেত্রেই পারদর্শী। নিজের সম্পর্কে অভিনেতা জানান “নাচ, গান এবং অভিনয়ে দক্ষতা ঈশ্বরের আশীর্বাদ। সে জন্য আমি ধন্য এবং কৃতজ্ঞ। তা ছাড়া বাবা, মা ছোট থেকে আমায় উৎসাহ দিয়েছেন। তাঁদের কাছেও আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ।”
দীর্ঘদিন ধরেই দিয়া মুখার্জি সাথে সম্পর্ক ছিল। তারপরেও বিচ্ছেদ। এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন অভিনেতা। তিনি জানান “তিন বছর… খারাপ লাগা ছিল। তিন বছর তো কম নয়। সম্পর্কটাকে খুব গুরুত্ব দিতাম। সবাই জানে। কিন্তু যে হতাশাগুলো আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াত, সেগুলো আর সহ্য করা যাচ্ছিল না। বিচ্ছেদের পরে আমি রোজ কতটা কষ্ট পেয়েছি, তা তো কেউ জানে না। জানাতে চাইও না। আমি কারও সহানুভূতি চাইনি। পরে জানতে পারি যে, অনেকের ধারণা, আমি নাকি এই তিন বছরে যা করেছি, সবটাই নাটক। সেটা শুনে খুবই কষ্ট হয়েছে আমার। আমি আজও বুঝি না যে ওর (দিয়া) সঙ্গে নাটক করে আমার জীবনে কী উন্নতি হবে! এই সম্পর্কটায় আমার কী কী সমস্যা বা কষ্ট ছিল, তা আর কেউ জানুক না জানুক, দিয়া সব-ই জানত।”
পাশাপাশি দিয়া মুখোপাধ্যায়ের পরিবার নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার মতে “পরিবার সম্পর্কিত অনেক কিছু নিয়ে অনেক দিন ধরেই সমস্যা চলছিল। কিন্তু তা নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। কারণ আমি দিয়াকে যথেষ্ট সম্মান করি। অতএব দিয়াকে বা ওর পরিবারকে ছোট করতে আমি চাই না। এটুকু বলতে পারি, সব কিছু সহ্য করেও আমি অনেক দিন পর্যন্ত চেষ্টা করে গিয়েছি। তাতেও মানিয়ে নিতে পারলাম না।”
দিয়া মুখোপাধ্যায়ের পর সুরভি মল্লিকের সাথে সম্পর্ক শুরু ইন্ডাস্ট্রি থেকেই। তাহলে কি প্রেম ও চলছে সমান তালে? অভিনেতার কথায় ইন্ডাস্ট্রিতে প্রেম করতে আসিনি। আমি বরাবরই চিরস্থায়ী সম্পর্কে বিশ্বাসী। তাই ‘করে দেখি’ গোছের প্রেম আমি করতে পারিনি। কোনও সম্পর্কে জড়ালে পুরোপুরি তাঁর সঙ্গেই থাকি। তবে এ রকম অনেক বিষয় আছে, যেগুলো আমি আগে থেকে জানলে সম্পর্কটা তৈরিই হত না। কারণ আমি মনে করি, বিয়ে হয় দুই পরিবারের মধ্যে। সেখানে আমার ও আমার পরিবারের গোটা ভবিষ্যৎ গুরুত্বহীন হয়ে পড়লে, তা খুবই কষ্টকর। যখন জানতে পারি, তখন অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে। ভেবেছিলাম ভালবাসা দিয়ে বোধহয় সবটা শুধরে দেওয়া সম্ভব। সেই ভুল এখন ভেঙে গিয়েছে। আর সুরভীর সঙ্গে আমার দেখা হওয়াটা ভবিতব্য বলে মনে করি। অভিনেতা না হলেও ভগবান অন্য কোনও উপায়ে ঠিক আমাদের দেখা করিয়ে দিত।
কাজের ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলেছে এই বিচ্ছেদ? অভিনেতা জানান কাজের জায়গায় সকলেই যথেষ্ট পেশাদার। তবে সব শেষে এটুকুই বলতে চাই যে দিয়া খুবই ভাল মেয়ে। ওর যাতে ভাল হয়, সেই প্রার্থনাই করব আমি।





