বাংলা সিরিয়ালের অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ অঞ্জনা বসু। বধূবরণ থেকে পিলু সব ধারাবাহিকে এই অঞ্জনা বসুর (Anjana Basu) অভিনয় মুগ্ধ করার মত। তার অভিনয়ের দক্ষতাতে বারবার দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। তিলু ধারাবাহিনীকে কাজ করতে করতে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন, তবে লম্বা বিরতি কাটিয়ে শুটিং করে ফিরেছেন। টেলি দুনিয়া আর এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু (Anjana Basu) যুক্ত ও রাজনীতির সঙ্গেও। বেশ অনেকদিন আগে এই ভিডিওটিতে যোগদান করেছেন অভিনেত্রী। অভিনয়টা ভালবাসেন, রাজনীতিটা তার কাছে আবেগ। অভিনেত্রী অঞ্জনা বসুর (Anjana Basu) মতে রাজনীতির দুনিয়া সম্পূর্ণ অন্য পৃথিবী। মাঠে ঘাটে নেমে কাজ করার মধ্যে একটা আলাদা অনুভূতি রয়েছে।
সম্প্রতি এই অভিনেত্রীকে (Anjana Basu) দেখা গেল বাসন্তী পূজার বিসর্জনে। এই বাসন্তী পূজোর সাথে বহুদিনের যোগাযোগ রয়েছে অভিনেত্রীর। লাল পাড়ের সাদা শাড়ি, কপালে সিঁদুরের টিপ, চোখে মোটা করে কাজল চেনা রূপে ধরা দিলেন ক্যামেরার সামনে। আর পাঁচটা সাধারন বাড়ির বউ, মেয়ের মত মাকে বরণ করে নিতে দেখা গেল অভিনেত্রীকে।
বাসন্তী পূজার বিসর্জনের দিনই এই পুজোর সাথে তার যোগ নিয়ে কথা বললেন অঞ্জনা বসু (Anjana Basu)। তিনি (Anjana Basu) জানাচ্ছেন, “এই পুজোতে আমি বহুদিন ধরে আসছি, এই পূজোর সাথে আমি মানসিকভাবে কানেক্টেড। আমার মাসি মেসোর পুজো। তবে রক্তের সম্পর্কের নয়। বলতে গেলে আমার বন্ধুর মাসি-মেসো। বন্ধু চাকরির সূত্রে বম্বেতে থাকে। ওর মাসি মেসো কবে যেন আমার মাসি মেসো হয়ে গেছে। যেহেতু আমার বাবা-মা শ্বশুর-শাশুড়ি কোন অভিভাবকই নেই তাই মাসি-মেসো আমার অভিভাবকের মতো।”
অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু (Anjana Basu) এই বাসন্তী পুজোর কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, “এই বাড়ির পুজো ৩০০ বছরের পুরনো। যখন মেসোর বাবা বাংলাদেশ থেকে চলে এসেছিলেন, তখন নিজেদের জামা কাপড় আনতে পারেননি। কিন্তু মায়ের ঘটটা মাথায় করে নিয়ে এসেছিলেন। তার কথায় সব চলে যাক, তবে মায়ের ঘট যেন না যায়। এখানে এসে প্রথমে ছোট করে পুজো হতো। শুধু ঘটেই পুজো হতো। পরবর্তীকালে ভাই বড় হওয়ার পর দায়িত্ব নিয়ে এই পুজো বড়ো করে করতে শুরু করল। মা খুবই জাগ্রত এখানে দাঁড়িয়ে কেউ মন দিয়ে মা কে বলেছে, সেটা হয়নি বা বিপদ কাটেনি এরকম কখনো হয়নি। কত বছর কত মানুষ নিজেদের আবেগে তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। “
মায়ের বিসর্জনের কথা বলতে গিয়ে আবেগে বসেছেন অভিনেত্রী (Anjana Basu)। তাঁর (Anjana Basu) কথায়, “বিসর্জনের পর এসে খালি জায়গাটা দেখা সেটা খুব কষ্টের। মা তো একেবারেই বাড়ির উঠোনে আসেন আরো ফাঁকা লাগে, কষ্ট হয়। তবে ঠিক আছে আবার আরেকটি বছরের অপেক্ষা।”
আরাধ্যদেবী মায়ের কাছ থেকে কি চেয়েছেন অভিনেত্রী (Anjana Basu)? জানাচ্ছেন, “এখন ঠাকুরের কাছে করজোড়ে সুস্থতা ছাড়া আর কিছুই কামনা করি না। সুস্থ থাকলে সবাই তার ইচ্ছা মত তার কাজটা করে নিতে পারবে।”





