৯০ দশক জুড়ে বাবা অঞ্জন চৌধুরীর (Anjan Chowdhury) একের পর এক হিট ছবিতে অভিনয় করে বাজিমাত করেছিলেন তার দুই মেয়ে। দিদি চুমকি চৌধুরীর (Chumki Chowdhury) সঙ্গে যুগলবন্দিতে বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করে জায়গা করে নিয়েছিলেন দর্শকদের মনে। মুখরা মেয়ের চরিত্রে পর্দায় বেশ ভালোই মানাত তাকে। তবে সিনেমা জগত থেকে একসময়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যান তিনি। কথা হচ্ছে অভিনেত্রী রীনা চৌধুরীর (Rina Chowdhury)।
১৯৭৪ সালে জন্ম হয় রীনার। বাবার ইন্ডাস্ট্রিতে স্ট্রাগলের সময়টা ছোটবেলাতেই দেখেছেন রীনা। বাবার হাত ধরেই যেতেন ষ্টুডিও পাড়ায় এবং দেখতেন সিনেমার শুটিং। ১৯৮৪ সালে যে সিনেমা অঞ্জন চৌধুরীর ভাগ্য খুলে দেয় সেই শত্রু সিনেমায় শিশু শিল্পী হিসেবে ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রীনা। এই ছবি পেয়েছিল দারুন জনপ্রিয়তা। তারপর রীনা বড় পর্দায় ফিরেছিলেন প্রায় দশ বছর পর ।
মায়া মমতা ছবি দিয়ে ফের বড় পর্দায় ফেরেন রীনা চৌধুরী। তারপর আব্বাজান, গীত সংগীত, মেজ বউ, পূজা, লোফার, শ্রীমান ভূতনাথ সহ অনেক ছবিতে করেছেন দাপিয়ে অভিনয়। তবে বাবা অঞ্জন চৌধুরীর ছবি ছাড়া সেভাবে অন্য কোন পরিচালকের ছবিতে কখনও তাকে দেখা যায়নি।
২০০০ সালের পর থেকেই ছবিতে উপস্থিতি কমতে থাকে অভিনেত্রী রীনা চৌধুরী। মনে করা হয় সংলাপ বলায় জড়তা এবং অভিনয়ে অতটা দক্ষ না হওয়ার কারণেই মেলেনি সুযোগ। এই সময়ে করেছেন চুটিয়ে যাত্রায় অভিনয়। সাথে করেছেন স্টেজ শো। রিনা খেয়ে দেখা গেছিল জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘এরাও শত্রু’তেও। সেই ধারাবাহিকের পরিচালক ছিলেন তার ভাই সন্দীপ।
রীনা অভিনয় জগৎ থেকে আস্তে আস্তে দূরে সরে গেলে ব্যস্ত হয়ে পড়েন নিজের সংসার নিয়ে। অভিনয় জগতেই তার সাথে আলাপ হয় তার স্বামী রাহুলের। অভিনেতা রাহুল গোস্বামীর সাথে প্রেম করে বিয়ে করেন রিনা চৌধুরী। তাদের একমাত্র কন্যা বর্তমানে পড়াশোনা করছেন আইন নিয়ে। তবে রিনা চৌধুরী বর্তমানে বাবার মত পরিচালনায় মন দিয়েছেন। সম্প্রতি করছেন ‘সোহাগ রাত’ বলে একটি ছবির পরিচালনা। এখন ক্যামেরার পেছনে থেকে কাজ করলেও অভিনেত্রী রিনা চৌধুরী জানিয়েছেন অভিনয়ের সুযোগ পেলে নিশ্চয়ই তিনি পর্দায় কামব্যাক করবেন।





