আর জি কর হাসপাতালে (RG Kar Hospital) তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষ’ণ এবং খু’নের ঘটনার পর থেকেই প্রতিবাদ আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছে রাজ্যের সাধারণ মানুষ। বর্তমানে শহর কলকাতা উত্তাল হয়ে উঠেছে জুনিয়ার চিকিৎসকদের প্রতিবাদ আন্দোলনে। এই প্রতিবাদ আন্দোলনে ‘থ্রেট কালচার’ (Threat culture)-এর বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা (Junior Doctors)। এমনকি তারা আশঙ্কা করেছেন যে ওই তরুণী চিকিৎসককেও থ্রেট কালচারের বলি হতে হয়েছে। এই কারণে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলিতে। ৫১ জন চিকিৎসককে থ্রেট কালচারে জড়িত থাকায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। এবার তাদের হয়েই সওয়াল করলেন তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।
সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ ৫১ জন চিকিৎসককে সাসপেন্ড করা হয় আর জি কর হাসপাতাল থেকে। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ পাওয়ার পরেই তাদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এবার তাদের হয়েই গলা ফাটালেন তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ। তিনি বলেন, “এই ছেলেমেয়েগুলি কোথায় যাবে? কীভাবে পড়বে? কীভাবে কাজ করবে? এরাও মেধাবী”। কুনাল ঘোষ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বলেন,”ভিন্ন রাজনৈতিক মত বলেই আর জি করে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না এই ৫১ জন চিকিৎসককে। যাদের উপর রাগ আছে, এখন তাদের গায়ে কোনও তকমা লাগিয়ে মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ঢোকা বন্ধ করার প্রবণতা আপত্তিকর”।
আর জি কর হাসপাতলের ভয়াবহ কান্ডের পর বিচার চেয়ে একাধিক দাবীতে কর্মবিরতি করছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। তাদের বেশ কয়েকটি দাবীর মধ্যে অন্যতম হল সমস্ত প্রতিষ্ঠান গুলিতেই থ্রেট কালচার বন্ধ করা। এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার কালীঘাটের বাড়িতে আলোচনাও হয়েছে চিকিৎসকদের। পাবে রাজ্যের তরফে এখনও এই বিষয়ে কোন পদক্ষেপ করা হয়নি। তাই কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।
তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, কর্মবিরতিতে থাকা জুনিয়র ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা সরকার নেবে না। সরকার কথা রাখছে। কিন্তু উলটোদিকে আন্দোলনকারীদের চাপে আর জি করের ৫১ জন-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে বহু জুনিয়র ডাক্তারকে যে কোনও অভিযোগ তুলে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে ব্যবস্থা হোক”।
আরও পড়ুনঃ ইন্টার্ন-পিজিটি পড়ুয়ারা বিরোধিতা করলেই ফাঁসানো হত যৌন হেনস্থার অভিযোগে, আর জি কর যেন রহস্যের ভাণ্ডার, ফাঁস সন্দীপের আরও কুকীর্তি
এর মধ্যে রাজনীতির ষড়যন্ত্র দেখতে পাচ্ছেন কুনাল ঘোষ। সেকথা তাঁর বক্তব্যেই বেশ স্পষ্ট। তিনি অভিযোগের স্বরে আরও বলেন, “কিন্তু চলতি পরিস্থিতির সুযোগে যে কোনও অভিযোগ রটিয়ে, অধ্যক্ষদের ঘেরাও করে চাপ দিয়ে রাজনৈতিক বিরুদ্ধ মতাবলম্বীদের সরাচ্ছে কিছু আন্দোলনকারী। এই ছেলেমেয়েগুলি কোথায় যাবে? কীভাবে পড়বে? কীভাবে কাজ করবে? এরাও মেধাবী। অবিলম্বে এদের সমস্যার সমাধানও করা দরকার। যাদের উপর রাগ আছে, এখন তাদের গায়ে কোনও তকমা লাগিয়ে মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ঢোকা বন্ধ করার প্রবণতা আপত্তিকর। এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে”।





