সামনেই পুজো। তার আগে পুরনো স্মৃতিচারণ করছেন টলিউডের তারকারা। কেউ নিজের ছোটবেলার কথা মনে করছেন। কেউ আবার নিজের পুরনো দিনগুলির কথা মনে করে আবেগে ভেসেছেন। এবার নিজের ছোটবেলার কথা বলতে গিয়ে স্মৃতিমেদুর হলেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেন। কিন্তু অভিনেত্রীর মনে কোনো আবেগ নেই পুজো নিয়ে।
এদিন অভিনেত্রী জানালেন, “পুজো নিয়ে তার মধ্যে কোন আবেগ নেই। বেশি মাতামাতি ভালো লাগেনা। কিন্তু পুজোর কয়েকটা দিন বেশ আনন্দেই কেটে যায়। তা অস্বীকার করবো না। ছোটোবেলা থেকে পুজোর সময় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, ফুল আড্ডা মারা, জামা কেনা সব মিলিয়ে একটা ছুটি ছুটি আমেজ থাকে চারিদিকে।”
সেদিন ছোটবেলার কথা মনে করে অভিনেত্রী জানান, পুজোয় তাঁর কাছে বড় ব্যাপার হল ‘পুজো প্রেম’। পুজো মণ্ডপে সুন্দর ছেলেদের নজরে আসা এক আলাদাই ব্যাপার। তাঁর মনে পড়ে, “একবার এক ছেলে তাঁকে মন্ডপের পেছনে নিয়ে গিয়ে পেন উপহার দিয়েছিল। সে পছন্দ করতেন অভিনেত্রীকে। অভিনেত্রীরও তাঁকে মন্দ লাগেনি। বড় হওয়ার পরে এরকম গল্প অনেকেই রয়েছে।” তাঁর আশপাশে ঘুরে বেড়িয়েছেন অনেকেই।
কিন্তু দিন দিন যত খ্যাতি বেড়েছে, ততো পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। এদিন অভিনেত্রী জানান, “ফ্রান্স থেকে এক বন্ধু এসেছিল। কিন্তু মনে ছিল না যে, আমি এখন একজন খ্যাতনামী। রাস্তায় বেরোলে লোকজন আমাকে চিনতে পারে। মনের আনন্দে বন্ধুকে ফুচকা খাওয়াতে নিয়ে গিয়েছিলাম। কাঁধে হাত দিয়ে একটু ঘনিষ্ঠ হতেই খেয়াল করলাম লোকজন ঘুরে বেড়াচ্ছেন আমার চারিদিকে। খুব রাগ হচ্ছিল। ভাবছি এভাবে তাকানোর কি আছে? একটি ছেলের সঙ্গে গল্প করছি বলে! পরে মনে পড়ল আমাদের অঙ্গভঙ্গির জন্য নয়, আদতে পর্দার বাইরে এভাবে কলকাতার রাস্তায় আমাকে দেখে থমকে গিয়েছে অনেকেই।”
স্কুলে পড়ার সময় একটি ছেলেকে খুব পছন্দ হয়েছিল অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনের। সেদিন বললেন, তাঁর বাড়ির সামনেই ছিল আরও এক বান্ধবীর বাড়ি। পুজোর চারদিন ওই ছেলেটিকে দেখবো বলে বান্ধবীর বাড়িতে ধর্না দিতে হতো। পুজোকে ঘিরে সকলের যে ভালো স্মৃতি জড়িয়ে আছে, তা নয়। অনেকের কাছে পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক খারাপ স্মৃতি ও দুঃখ।
একসময় টলিউডের এই তারকা ব্যক্তিত্বের বাবার কাছে টাকা ছিল না। বন্ধুরা এক একদিন এক একটা নতুন পোশাক পড়ে আসত। কিন্তু বাবা খুবই কষ্ট করে একটি জামা কিনে দিয়েছেন। নিজে রোজগার করার পর সেই শখ পূরণ করেছেন ধীরে ধীরে যদিও। কিন্তু মনে সেই খারাপ লাগাগুলো এখনও দীর্ঘস্থায়ী রয়ে গিয়েছে। অভিনেত্রীর কথায়, “কখনও কখনও পুজোর একঘেয়েমি লেগে যায়। তাই শহর থেকে বেরিয়ে পুজোর সময় নিজের ঠিকানা বদলে ফেলি। কখনও জঙ্গল, কখনও সমুদ্র, কখনও পাহাড় আস্তানা হয়ে ওঠে।”
এবারও তেমন কিছু করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন ঋতুপর্ণা। নিজেকেই চমকে দিতে চান। এখন একা থাকেন। কলকাতায় থাকলে মা চলে আসেন অভিনেত্রীর কাছে। বাঙালি হিসেবে পুজোয় আনন্দ করেন ঠিকই। কিন্তু নিজের বাড়িতে কোন পুজো বা বিশেষ দিনে মাতামাতির চল নেই। বলতে গেলে বাবা-মা খুবই নাস্তিক।
এমনিতেই গতবছর করোনার জন্য ছিল অনেক বিধি-নিষেধ। এই বছরেও তা জারি রয়েছে। তবে এই সমস্ত বাধানিষেধের মধ্য দিয়েই নিজের খুশি আর আনন্দ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছেন টলিউডের জনপ্রিয় এই তারকা।





