টলিউডে কাজের পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। একাধিক শিল্পীকে অকারণেই ব্যান করা, ফেডারেশনের নিয়মে কাজ আটকে যাওয়া, অথবা সময়মতো কাজ না পাওয়া—এই সব অভিযোগ উঠেছে বহুবার। সেই কারণেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এবার নিজের ভাবনা শেয়ার করলেন ত্রমীলা ভট্টাচার্য। ৩০ বছর সিনেমা ও টেলিভিশন শিল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি শিল্পীদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।
ত্রমীলা লিখেছেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি নামের এই জগত কতটা “ইন্ডাস্ট্রিয়াল” তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন আছে। এখানে সবাই চুক্তিভিত্তিকভাবে কাজ করেন এবং প্রায় ২৬টি গিল্ড ফেডারেশনের নিয়ন্ত্রণে। এই গিল্ডগুলোতে ৮০০০ থেকে ১০,০০০ কলাকুশলী আছেন, যাদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দক্ষতার মানুষ। তবে এই শিল্পী ও কলাকুশলীদের অনেকেই ফেডারেশনের আওতায় নেই। এছাড়াও ম্যানেজার্স গিল্ড এবং কিছু অগিল্ডেড মানুষও কাজ করছেন, যারা নিয়মিত পারিশ্রমিক বা নিরাপত্তা পায় না।
শিল্পীরা স্বাস্থ্যগত কারণে অসুস্থ হলে, দুর্ঘটনা ঘটলে বা বয়স বাড়লে কাজ বন্ধ হয়ে যায়, আর আয়ও রোজ বন্ধ। পেশার অন্যান্য ক্ষেত্রে যেখানে অবসরকালীন সুবিধা থাকে, সেখানে তুলনামূলকভাবে আর্থিক সুরক্ষা থাকে। কিন্তু টলিউডে তা নেই। নতুন মুখ আসার কারণে অভিজ্ঞ শিল্পীর পারিশ্রমিক বৃদ্ধিও সীমিত হয়। এই পরিস্থিতিতে, এত বড় এবং অর্গানাইজড না হওয়া সেক্টরকে শুধুমাত্র “ইন্ডাস্ট্রি” বলার কতটা অর্থ রয়েছে, তা ত্রমীলা প্রশ্ন করেছেন।
ত্রমীলা আরও লিখেছেন, শিল্পীদের কাজের সুযোগ বাড়াতে নতুন চ্যানেল, নতুন সিনেমা, শর্ট ফিল্ম থেকে ব্লকব্লাস্টার সব ধরনের কাজের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আয় হয় ধারাবাহিক কাজ থেকে, তবে সেখানে মনোপলি কার্যকর। কিছু অপারেটর চ্যানেল দেখায় না, ফলে ব্যবসা করতে না পেরে অনেক চ্যানেল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই কারণে নতুন এবং পুরনো শিল্পীদের জন্য কাজের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।
আরও পড়ুনঃ যু’দ্ধ, হুম’কি আর শেয়ার বাজার, সবকিছুর মাঝেই কি গোপন আর্থিক খেলা? সোনালি স্মার্টফোন বিতর্ক থামার আগেই নতুন করে কেন শেয়ার কেলে’ঙ্কারিতে জড়াল ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিবার?
শেষে ত্রমীলা স্পষ্টভাবে বলেছেন, “মনোপলি বন্ধ হোক। কাজ হোক সবার জন্য।” তিনি মনে করেন, শিল্পীদের পরিবারের জীবনও এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। সবার জন্য কাজের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত। শিল্পী জীবনের নিরাপত্তা ও কাজের সুযোগ বৃদ্ধিই টলিউডকে আরও শক্তিশালী করবে এবং শিল্পী সমাজের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা করবে।






