‘পুরানো সেই দিনের কথা’ গাইতে গাইতে কা’ন্নায় ভেঙে পড়লেন মেয়ে, ঐশীর কন্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনে পঞ্চভূত বিলীন অনীক দত্ত! আ’ত্মহ’ত্যার আগে একমাত্র কন্যার জন্য চিঠিতে কী লিখে গিয়েছেন বাবা?

গত ২৭ মে বুধবার আচমকাই স্তব্ধ হয়ে যায় টলিপাড়া। দুপুরের দিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে, পরিচালক অনীক দত্ত আর নেই। কলকাতার হিন্দুস্তান পার্ক এলাকার একটি আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারেননি। পরে তদন্তে জানা যায়, সেদিন তিনি প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। নিজের গাড়ি চালিয়ে সেখানে পৌঁছে ড্রাইভারকে নিচে অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। কিছুক্ষণ পর আচমকাই বিকট শব্দ শুনে ছুটে গিয়ে দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন পরিচালক। ঘটনাস্থল থেকেই উদ্ধার হয় একটি সুইসাইড নোট, যেখানে নিজের মানসিক যন্ত্রণার কথা লিখে গিয়েছেন তিনি।

পরিচালকের মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার সকালেই তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় নন্দনে। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হয়েছিলেন বহু অনুরাগী, সহকর্মী এবং টলিউডের পরিচিত মুখেরা। শোকের আবহে ভরে ওঠে গোটা প্রাঙ্গণ। অনেকেই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ খ্যাত এই পরিচালকের প্রতি। এরপর সেখান থেকে অনীক দত্তর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় টলিপাড়ার ঐতিহ্যবাহী নিউ থিয়েটার্স ১ স্টুডিওতে। সেখানে তাঁকে ঘিরে ছিলেন বহু অভিনেতা, পরিচালক এবং শিল্পী। উপস্থিত ছিলেন সৌরভ দাস, অগ্নিমিত্রা পাল, লগ্নজিতা চক্রবর্তী, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষ, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, জিতু কমল সহ আরও অনেকে। অভিনেতা জিৎ মালা দিয়ে পরিচালককে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় যখন পরিচালকের নিথর দেহের পাশে বসে গান ধরেন তাঁর একমাত্র মেয়ে ঐশী। পাশে ছিলেন অনীকের প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি দত্তও। বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে ঐশী গেয়ে ওঠেন, “পুরানো সেই দিনের কথা”। গান গাইতে গাইতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। উপস্থিত অনেকের চোখেও তখন জল। পুরো স্টুডিও জুড়ে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। পরিবারের ঘনিষ্ঠদের কথায়, বাবা-মেয়ের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ছিল। তাই এই মুহূর্ত আরও বেশি আবেগঘন হয়ে ওঠে। পরে নিউ থিয়েটার্স থেকে অনীক দত্তর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেওড়াতলা মহাশ্মশানে। সেখানেই বাবার শেষকৃত্যের সমস্ত কাজ সম্পন্ন করেন মেয়ে ঐশী।

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে নিজের দীর্ঘদিনের মানসিক অবসাদ এবং হতাশার কথা লিখে গিয়েছেন পরিচালক। তিনি যে বেশ কিছুদিন ধরেই ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ছিলেন, সেই ইঙ্গিত মিলেছে ওই চিঠিতে। তবে নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি তিনি। তদন্তকারীরা এখন পুরো ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছেন। কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন অনীক দত্ত, তা জানার চেষ্টা চলছে। যদিও প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ এবং ব্যক্তিগত হতাশা থেকেই এই চরম পদক্ষেপ করেছেন পরিচালক। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ ‘মাম্মাম আমার সব…’ প্রিয়জনকে হারিয়ে ভেঙে পড়লেন সায়ন্তনী গুহঠাকুরতা! শেষ বিদায়ের স্মৃতি বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ অভিনেত্রী!

বাংলা সিনেমায় অনীক দত্তর অবদান আলাদা করে মনে রাখবেন দর্শকরা। ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ ছবির মাধ্যমে তিনি যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন, তা আজও অমলিন। সমাজ এবং সময়কে ব্যঙ্গের মাধ্যমে তুলে ধরার বিশেষ ক্ষমতা ছিল তাঁর পরিচালনায়। তাই তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক নেমে এসেছে টলিউডে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও বহু শিল্পী এবং অনুরাগী স্মৃতিচারণ করেছেন তাঁকে নিয়ে। অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না, এত হঠাৎ করে চলে গেলেন এই পরিচালক। শেষ যাত্রার দিনও বারবার ফিরে এসেছে তাঁর কাজ, তাঁর গান এবং তাঁর তৈরি চরিত্রদের কথা। অনীক দত্ত আর নেই, কিন্তু বাংলা সিনেমায় তাঁর তৈরি ছাপ দীর্ঘদিন দর্শকের মনে থেকে যাবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর