জন্মদিনের ‘সেরা উপহার’ পেলেন নিখিল, নুসরতের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় জয়ী নুসরতের সহবাস-সঙ্গী

আলিপুর আদালতে জয় হল নিখিল জৈনের। নুসরত জাহানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে অবৈধ, এমনই রায় দিল আদালত। গতকাল, মঙ্গলবার এই মামলার রায়দান প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এরপর আজ দুই পক্ষের আইনজীবীর হাতে তুলে দেওয়া হয় এই নির্দেশনামা।

দীর্ঘদিনের তর্ক-বিতর্ক স্বেশ হল এদিন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে নুসরতের সঙ্গে সব সম্পর্ক শেষ করতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নিখিল। ‘অ্যানালমেন্মট অফ ম্যারেজ’ নিয়ে নিখিলের করা মামলায় রায় দিল আদালত। জয়ী হলেন নিখিল। এদিন নিখিলের আইনজীবী জানান, “বিচারপতি আমার মক্কেলের পক্ষে রায় দিয়েছেন”।

এর আগে নুসরত জানিয়েছিলেন, “তুরস্কের বিবাহ আইন অনুসারে ওই বিয়েটা অবৈধ। তার উপর এটা যেহেতু হিন্দু-মুসলিম বিয়ে সেক্ষেত্রে বিশেষ বিবাহ আইন অনুসারে এই বিয়েতে স্বীকৃতি দরকার। সেটা হয়নি। ফলে এটা বিয়েই নয়”।

এদিকে আজ নিখিল জৈনের জন্মদিনও বটে। আদালতের এই রায় সম্পর্কে নিখিল জানিয়েছেন, ‘জন্মদিনে এটাই সেরা উপহার’। ২০১৯ সালের ১৯ই জুন নিখিল জৈনের সঙ্গে তুরস্কের বোদরুমে রূপকথার ‘বিয়ে’ সেরেছিলেন নুসরত জাহান। এরপর জুন মাসে কলকাতায় বসেছিল তাঁদের বৌভাতের অনুষ্ঠান। সেই বিয়েকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে দিল আদালত।

মাস কয়েক আগেই নুসরতের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর মেলে। সেই সময়ই নিখিল জানান যে নুসরতের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। তিনি এও জানান যে নুসরতের সন্তানের পিতা তিনি নন। নিখিল স্পষ্ট জানান, “যেদিন বুঝেছিলাম ও আমার সঙ্গে নয়, অন্য কারোর সঙ্গে থাকতে চায়, সেদিনি আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম”।

বলে রাখি, তুরস্কে বিয়ের পর্ব সারলেও নুসরত-নিখিলের এই বিয়ে স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্টের আওতায় রেজিস্টার করা হয়নি এদেশে। সেই কারণেই এই বিয়ের আইনি বৈধতা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল। নুসরত-নিখিল দুজন ভিন্ন ধর্মের মানুষ হওয়ায়, তাঁদের বিয়ের আইনি স্বীকৃতির জন্য ওই বিশেষ আইনের আওতায় বিয়ে রেজিস্টার হওয়াটা জরুরি।

নুসরত বা নিখিল, কেউই এই বিয়ে টিকিয়ে রাখার পক্ষে ছিলেন না। তাই দুজনের বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই এই বিয়ে খারিজ করেছে আদালত। কোনও তথ্য প্রমাণ এক্ষেত্রে বিচার্য ছিল না বলেই জানা গিয়েছে।

আরও অন্যান্য খবর