টলিপাড়া অনামিকা সাহাকে (Anamika Saha) খুব ভালো করেই চেনেন। এখনকার বেশিরভাগই তাকে চিনবেন খলনায়িকার চরিত্রে। তবে অন্যান্য বহু চরিত্র তিনি করেছেন। অভিনয়ের ছাপ পড়ে রয়েছে টলি জগতে একাধিক ছবিতে। প্রসেনজিতের সাথে একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন মায়ের চরিত্রে। তবে শুধুমাত্র মায়ের চরিত্রই করেননি তিনি, এক সময় তিনি করেছেন নায়িকার চরিত্রও। কত লাঞ্ছনা যন্ত্রনা সহ্য করে কাজ করে যেতে হয়েছে টলিপাড়ায় তা নিয়ে মুখ খুলেছেন অনামিকা সাহা (Anamika Saha)। সিনেমার জন্য ভেঙে যাচ্ছিল তার বিয়ে, এমন অবস্থাতেও তিনি কাজ করে গেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন তখনকার সাথে এখনকার সিনেমার পরিবর্তন নিয়ে এখনকার নায়ক নায়িকাদের নিয়ে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টলিপাড়ায় তার জীবনের চড়াই-উতরাই নিয়ে।
সাক্ষাৎকারে কী বললেন অনামিকা সাহা (Anamika Saha)?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, আগে তিনি খুব চুপচাপ ছিলেন, এখন কথা বলতে পারেন মুখের ওপরই। এই অনামিকা সাহা ৪৫ বছর ধরে অভিনয় করছেন ইন্ডাস্ট্রিতে। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “আগে আমার ছিপচিপে গড়ন ছিল তার জন্য সব সময় বাইজি, ভ্যাম্প রোল আমাকে দেওয়া হত। সেসব দেখে শ্বশুর মশাই আমাকে কাজ করতে বারণ করেন। অমর সঙ্গী, অমর প্রেম এসব সিনেমার নায়িকার ডাবিং রোল করেছেন এক সময় অনেকেই জানেন না সেসব কথা।”
এসবের পরেই হঠাৎ করে বেদের মেয়ে জ্যোৎস্নাতে সুযোগ পান তিনি। শ্বশুর মশাইয়ের অনুমতি নিয়েই করতে গেছিলেন অভিনয়। তারপর শয়তান ছবিতে খলনায়িকার চরিত্র করতেই সুপার-ডুপার হিট হয় ছবি। তারপর থেকেই ক্রমশ আসতে থাকে খলনায়িকার চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ। তার এত ভালো কেরিয়ারে মেয়ের জন্যই খলনায়িকার চরিত্র ছাড়েন অনামিকা সাহা (Anamika Saha)। খারাপ লাগলেও বুকে কষ্ট চেপে তিনি থাকতেন। তারপরেই মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেন মায়ের আঁচল সিনেমায়।
সাক্ষাৎকারে অনামিকা সাহা (Anamika Saha) বলেছেন, “আমাকে বরাবর কালো দাগের চরিত্রে অভিনয় করতে দেওয়া হতো সে সময় আমাকে বলা হতো বাংলায় রেহানা সুলতানা এসেছে”। তিনি জানিয়েছেন, “অশ্লীলতার দায়ে সিনেমায় তার পোস্টার দেখে বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় আমার বিয়ে ভাঙার উপক্রম করেছিলেন। পোস্টারে ছিল পা যুগলের ছবি, মল পড়া। আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছিল ডেট ঠিক হয়ে গেছিল আর তারপরেই সেই পোস্টারে পোস্টারে ছয়লাপ হয়ে গেছিল কলকাতার চারদিকে। আমার স্বামীকে বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় বলেছিল ছিঃ ছিঃ বোধি কাকে বিয়ে করছিস? যে মেয়ে কলকাতা দুটো পায়ের নাচাচ্ছে এই মেয়েকে তোর পছন্দ হলো। সকলের সামনে সেটে এমনভাবেই বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়। বিপ্লবদা এমনই মজা করতেন।”
এখনকার সিনেমা নায়ক নায়িকাদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “আমাদের সময় ছিল অভিনয়ের স্বর্ণযুগ। ভালো ছবি ভালো গান সবই হতো। এখন ভালো অভিনয়ের ছেলে আছে ভালো অভিনয়ের মেয়ে আছে কিন্তু শিক্ষা গুরু নেই”।
ছবি মানুষের মনের দাগ কেটে থাকতে পারে না এমনই মন্তব্য করেছেন অনামিকা সাহা (Anamika Saha)। জিৎ-দেবের ছবি মানুষের মনে দাগ কাটতে পারেনা। তিনি বলেছেন, “আগেকার যখন ছবি দেখে বের হতাম তখন দুদিন তিনদিন মনে সেই ছবির রেশ থেকে যেত। এখনকার সেরকম গল্পই নেই। এবার টনিকের নাম হয়েছে প্রজাপতির নাম হয়েছে তবে পাশে একজন শক্তিশালী অভিনেতাদের নিয়ে সে কাজটা দাঁড়িয়েছে একা সে কিছু করতে পারেনি”।





