গত ৩ মার্চ ছিল আম্বানি পুত্রের প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠান। অনন্ত আম্বানি ও রাধিকা মার্চেন্টের প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিনে পারফর্ম করেছেন শ্রেয়া-অরিজিৎ। দুই বাঙালি গায়ক-গায়িকার যুগলবন্দিতে মন ভরেছে সেখানে উপস্থিত শ্রোতা-দর্শকদের। তাদের সুরেলা কন্ঠের অনুরাগী অনেকেই। শ্রেয়া ঘোষাল ও অরিজিৎ সিং, দুজনেই সেদিন নিজেদের গাওয়া একাধিক বলিউডের গান একক ভাবে গেয়ে শোনান। আবার ডুয়েট গাইতেও দেখা যায় তাদের। শ্রেয়া ও অরিজিতের গাওয়া ‘মেরে ডোলনা’ গানটিতে মন্ত্রমুগ্ধ হয়েছেন আগত দর্শকরা। দুই গায়ক-গায়িকাকে একসঙ্গে গানের ক্লাসিক্যাল অংশটি গাইতে শোনা যায়। দুজনেই দুজনের জায়গায় সেরা। তাদের কখনো প্রতিযোগিতার আসনে বসতে হয়নি। দুজনের ফ্যান ফলোয়িং ও বেশ আলাদা।
আম্বানি পুত্রের প্রাক বিবাহের অনুষ্ঠানে তারা গানে গানে বুঝিয়ে দেন, দুজনেই দুজনের জায়গায় সেরা, কেউই কম নন। আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখি শিল্পীদের মধ্যে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই কিন্তু তাদের অনুরাগীদের মধ্যে টক্কর প্রতিযোগিতা। এমন ভাবেই অনেক সময় যুদ্ধ জড়িয়ে পড়েন তারা। সোশ্যাল মিডিয়ার প্লাটফর্মে কমেন্ট ভর্তি হয়ে যায় অনুরাগীদের বাকযুদ্ধে। এবার শ্রেয়া নাকি অরিজিৎ, কে সেরা, তা নিয়ে ঝগড়া শুরু করেছেন তাদের অনুরাগীরা।
অরিজিৎ-এর ফ্যান ক্লাবের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়া সেই ভিডিওর কমেন্ট বক্সে চলছে দুই অনুরাগীর বাকযুদ্ধ। এক শ্রেয়া অনুরাগী লিখেছেন, “ক্লাসিক্যাল গানের ক্ষেত্রে শ্রেয়া ঘোষালের সামনে অরিজিৎ সিং টেকে না”। এই মন্তব্যে সমর্থন করে আরও এক শ্রেয়া অনুরাগী লেখেন, “একেবারেই ঠিক কথা”।
অরিজিৎ সিং-এর ফ্যান ক্লাবের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে এমন মন্তব্যে বিরক্ত অরিজিৎ অনুরাগীরা। বেজায় রেগে যান তারা। এক অরিজিৎ অনুরাগী প্রশ্ন করে লিখছেন, ‘কী বললেন!’ শুরু হয় ঝগড়া, তর্ক বিতর্ক। পাল্টা এক অরিজিৎ অনুরাগী লেখেন, “এসব কমেন্ট করার আগে অরিজিৎ সিংকে জেনে নেওয়া ভালো, নইলে লোক মূর্খ বলবে”। আরও একজন অরিজিৎ সিং অনুরাগী লেখেন, “আপনি মনে হয়, অরিজিৎ সিংএর আমি যে তোমার ভার্সানটা শোনেনি। ওদের সামনে আপনিও টিকবেন না”।
একজন কমেন্টে বলেছেন, “আসলে গানটা শ্রেয়া ঘোষালই গাইছিলেন, অরিজিৎ হয়ত সঙ্গে একটু গেয়েছেন। তবে আপনি অরিজিৎ-এর এই গান না শুনে থাকলে, সেটা আগে শুনে নিন”।
কেউ আবার কোন গায়ক গায়িকারি পক্ষপাতিত্ব করেননি, দুদিক সমান রেখে বলেছেন, “দুজনই ভার্সেটাইল গায়ক-গায়িকা। অরিজিৎও ক্লাসিক্যাল শেখা গায়ক, আর শ্রেয়াও। ওদের নিয়ে তর্ক করাই বৃথা। এধরনের মন্তব্য করা উচিত নয়।” তেমনই একজন লিখেছেন, “বাঙালি হিসাবে আমরা দুজনকে নিয়েই গর্বিত”।





