আর জি কর (R G kar) কাণ্ডের আবহেই যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে টলিউডের (Tollywood) পরিচালক অরিন্দম শীলের (Arindam Sil) ওপর। পরিচালকের নামে অভিযোগ ওঠেন তিনি এক অভিনেত্রীকে তার সম্মতি ছাড়াই কোলে বসিয়ে চুমু খান। ওই অভিনেত্রী প্রথমে মহিলা কমিশনের অভিযোগ জানান। এবং পরবর্তীতে থানায় এফআইআরও করেছেন ওই অভিনেত্রী। এই ঘটনার জেরে ডিরেক্টরস গিল্ড (Director’s guild) থেকেও নির্বাসিত করা হয়েছে পরিচালক অরিন্দম শীলকে।
অরিন্দম শীলের কর্মজীবন নিয়ে যখন হচ্ছে জোড় আলোচনা তখন তার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু কথাও সামনে উঠে আসছে সমাজ মাধ্যমে। বর্তমানে তার দ্বিতীয় স্ত্রী শুক্লা শীল এবং মেয়ে সনিকা শীলকে নিয়ে অরিন্দম শীলের পরিবার। এই সনিকা শুক্লার প্রথম স্বামীর সন্তান। তবে জানা যাচ্ছে, তার প্রথম স্ত্রী-কে ডিভোর্স না দিয়েই শুক্লা শীলের সঙ্গে জীবন অতিবাহিত করে চলেছেন অরিন্দম।
অরিন্দম শীলের প্রথম স্ত্রী তনুরুচি শীল একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্ট করেছিলেন বেশ কিছু বছর আগে। এই পোস্টটি বর্তমান পরিস্থিতিতে হয়ে উঠেছে ভাইরাল। সেই পোস্টে তনুরুচি শীল লেখেন, “আমি চার্বাক নাট্য গোষ্ঠীতে ছিলাম আর সোনেক্স আমি ও অরিন্দম একই সঙ্গে কাজ করতাম। সেখানেই পরিচয়, প্রেম ও বিবাহ। সুখী দম্পতি বলতে যা বোঝায় তাই ছিলাম আমরা। কিন্তু অশান্তির সূত্রপাত আমাদের দাম্পত্য জীবনে শুক্লা দাসের আগমনে”।
তনুরুচি শীল আরও জানান, তাঁর সঙ্গে এখনও অরিন্দম শীলের বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। আইনত তিনি এখনও পরিচালক অরিন্দম শীলের স্ত্রী। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওই শুক্লা নামক মহিলাটিকে নিজের স্ত্রী এবং তার মেয়েকে নিজের মেয়ে পরিচয় দিয়ে সংসার করেন অরিন্দম।
তনুরুচি শীল সেই পোস্টে আরও লিখেছেন, “ওর স্বামী রজত কিছুদিন পরে মানসিক যন্ত্রণায় ও চরম কষ্ট ভোগ করে মারা যায়। আমার বাবা ১৯৯৯ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে মারা যান। বাবার চারদিনের কাজে আমি বাড়ি গিয়ে ছিলাম। ফিরে এসে দেখি অরিন্দম আমার সাথে হঠাৎই অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করছে। তখনো কিছু বুঝতে পারিনি”। তখনও তিনি জানেন না যে শুক্লার সাথে অবৈধ সম্পর্কের জড়িয়ে পড়েছেন তার স্বামী।
এরপর তিনি আরও লেখেন ,”জানতে পারলাম যখন জুন মাসে শুক্লা আর অরিন্দম আমার সামনে দিয়ে দার্জিলিং চলে গেল। আমাকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করা হয়। তারপর আমার আর অরিন্দমের যৌথভাবে কেনা ফ্ল্যাট ওরা দুজন দখল করে ও আমার নামে একটা কেস করে যে আমি নাকি বাড়ি বিক্রি করে দিতে চাইছি”।
তনুরুচি আরও জানিয়েছিলেন, যাতে সবাই ব্যক্তি অরিন্দম শীলকে চিনতে পারে, তাই এই কথাগুলো সর্বসম্মুখে এসে বলছেন তিনি। যখন তাঁকে তাঁর ফ্ল্যাট থেকে তাড়িয়ে দিয়ে ডিভোর্স না দিয়ে আরেকজন মহিলাকে নিজের স্ত্রী বলে সংসার করছিলেন, তখন তিনি ছিলেন বাম সরকার ঘনিষ্ঠ এবং তিনি তৃণমূল সরকারের ঘনিষ্ঠ। সেই জন্য সেই সময়ও সুবিধা পেয়েছিলেন অরিন্দম শীল। আর আজকেও সে সুবিধাবদী হয়েই পার পেয়ে যাবেন। তিনি বলেন, অরিন্দম শীল আসলে কী প্রবৃত্তির মানুষ সেটা সবার জানা দরকার। তনুরুচি শীলের ২০২০ সালে করা এই পোস্ট বর্তমান সময়ে যেন আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার