অত্যধিক শাসনেই কি বিপথে চলে গেল গুগলি? মিতুলের অতিরিক্ত শাসনের দোষ বলছে দর্শক, ভালোবেসে শাসন করলে হয়তো এমনটা হতো না দাবি করছেন ভক্তরা

বাংলা ধারাবাহিক (Bengali Serial) জগতে বেশ জনপ্রিয় ‘খেলনা বাড়ি’ (Khelna Bari)। এই সিরিয়ালে মুখ্য চরিত্রে দেখা যাচ্ছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী আরাত্রিকা মাইতি (Aratrika Maity) এবং বিশ্বজিৎ ঘোষকে (Biswajit Ghosh)। নিত্যদিন ধারাবাহিকে আসছে টুইস্ট। প্রিয় দর্শকেরা অনেকেই ভালোবেসে অভিনেত্রীর নাম দিয়েছেন ‘লেডি সিংহাম’। তাঁর প্রতিবাদী চরিত্র মন ছুঁয়েছে দর্শকদের। দর্শকদের মনোরঞ্জন দিতে ধারাবাহিকে আসছে একের পর এক টুইস্ট। আর পুরোনো সমস্ত ধারাবাহিকের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ‘খেলনা বাড়ি’। এই সিরিয়ালের মিতুল চরিত্রটি বেশ পছন্দ করেন সিরিয়াল প্রেমীরা। আর সে কারণেই সন্ধ্যা হলেই টিভির সামনে বসে পড়েন বাড়ির মা-কাকিমার। বর্তমানে খেলনা বাড়ি ধারাবাহিকে নেওয়া হয়েছে দীর্ঘ কয়েক বছরের লিপ।

বড় হয়ে গেছে গুগলি। বদলে গেছে প্রত্যেকের চেহারা। যেখানে সবার চোখে মুখে কথাবার্তায় বয়সের ছাপ স্পষ্ট। বয়সের ছাপ চোখে পড়ছে মিতুল ইন্দ্রর। অন্যদিকে কলি ও তার স্বামীর বয়সও বেশি সুন্দর ভাবে বোঝানো হয়েছে ধারাবাহিকে। মারা গেছে তাদের দাদু। যিনি বরাবরই পজিটিভ চরিত্রতে অভিনয় করে আসছিলেন। ১০ বছর পর ধারাবাহিকে কি হবে? কেমন থাকবে মিতুল আর ইন্দ্রর সম্পর্ক? এখন এই প্রশ্নই জাগছে দর্শক মনে। আরো একটা জিনিস যেটা দর্শকদের বেশ হতাশ করেছে তাহলে মিতুল ইন্দ্রর দাদুর মৃত্যু। তাকে বেশ পছন্দ করতেন দর্শক মহল। দর্শকদের এক পক্ষের মতে যেটা হয়েছে সেটাই হওয়া উচিত ছিল।

বর্তমান টেলি নায়িকাদের মধ্যে মিতুল চরিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভীষণ রকম প্রতিবাদী একটি চরিত্র মিতুলের। তাঁকে বাংলা টেলিভিশনের রঞ্জিত মল্লিক বলা হয়ে থাকে। দর্শকরা যে ইন্দ্র, মিতুল এবং গুগলিকে ভীষণভাবে পছন্দ করেন তা বলা বাহুল্য। আর অন্যান্য ধারাবাহিকের ন্যায় এই ধারাবাহিকও এবার লিপ নিয়েছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধারাবাহিক লিপ নিয়েছে, সম্প্রতি অনুরাগের ছোঁয়া, মিঠাই, গুড্ডি একাধিক ধারাবাহিকে লিপ নেওয়া দেখানো হয়েছে। তবে এবার সব ধারাবাহিককে টপকে ১৫ বছরের লম্বা লিপ নিয়েছে এই ধারাবাহিক। যা কার্যত হাস্যকর ঠেকেছে দর্শকদের কাছে। যথারীতি লিপ নেওয়ার ফলে চরিত্র পরিবর্তন হয়েছে অনেকের। বড় হয়ে গেছে অনেকে। গুগলি, মিতুলের ছেলে আদর সবাই বড় হয়েছে।

অত্যধিক শাসনেই কি বিপথে চলে গেল গুগলি? মিতুলের অতিরিক্ত শাসনের দোষ বলছে দর্শক, ভালোবেসে শাসন করলে হয়তো এমনটা হতো না দাবি করছেন ভক্তরা

অনেক বড় হয়ে গেছে গুগলি। সে এখন যুবতী। সেই ছোট্ট গোলুমোলু বাচ্চাটা আর নেই। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বদল ঘটেছে চরিত্রও। আগে গুগলি ছিল মিতুলের ছোট্ট মিষ্টি বন্ধু। কিন্তু বর্তমানে গুগলি নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করছে অর্থাৎ আর সেই মিতুলের বন্ধু নেই বরং একরাশ অভিযোগ গুগলির মনে মিতুলের জন্য। গুগলির ছোট থেকে বড় হয়ে গিয়ে এমন পরিবর্তন ঘটার পিছনে মিতুলের অত্যাধিক এবং অনৈতিক শাসনকেই কারণ হিসেবে মনে করছে দর্শক মহল। একটা বাচ্চাকে যদি ভালোবাসার সাথে শাসন করা যেত অথবা অত্যধিক বকাঝকা না করে বোঝানো যেত তাহলে হয়তো গুগলি এমন পরিবর্তন ঘটতো না।

অত্যধিক শাসনেই কি বিপথে চলে গেল গুগলি? মিতুলের অতিরিক্ত শাসনের দোষ বলছে দর্শক, ভালোবেসে শাসন করলে হয়তো এমনটা হতো না দাবি করছেন ভক্তরা

এই প্রসঙ্গে এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন – ‘মিতুলের শাসন গুলা এইবার একটু বেশি ভুল হচ্ছে। ভালোবাসায় শাসন না করে রাগের শাসনে সন্তান ভুল পথে চলে তার উদাহরণ গুগলি। গুগলি গাড়ি থেকে নামার পর মিতুরের উচিত ছিলো ওকে দোঁড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরা (গুগলির জন্য যে মিতুল চিন্তা করে সেটা তাহলে সেই বুঝতে পারতো) কিন্তু এই ভাবে গুগলি কে জবাবদিহি করা টা ঠিক হয়নি এই বিষয়ে পরে কথা বলতে পারতো। গুগলি যখন ছোট ছিলো ও তো আর জানেনা কিভাবে বাচ্চা কিভাবে কোলে নেই তখন ও মিতুল ওকে বুঝিয়ে বলতে পারতো এইভাবে রিয়েক্ট না করে (ছোট বাচ্চা র মনে সেই প্রভাব ও রয়ে গেলো) তার পর ফোন চাওয়া তে এটাও পরে আদর করে বুঝিয়ে বলা যেতো। জানি মিতুল ওকে অনেক ভালোবাসে কিন্তু মানুষ তো খারাপ মুহূর্ত গুলা বেশি মনে রাখে তাই না। আর মিতুল গুগলি সম্পর্ক বন্ধুর মতো ছিলো এই ভাবে গুগলি কে মিতুলের বিরুদ্ধে নেওয়া ৩য় ব্যক্তি ভালোলাগলো না। তাও আবার যাকে গুগলি কখনো পছন্দ করতো না। গুগলি চরিত্র টা যথেষ্ট বুদ্ধিমতী ছিল। দেখি পরে কি হয় কিন্তু গুগলি আর গুগলির এই মাসী দরদী টা মানতে পারছি না।’

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles