মোট ৫৯ টি চীনা অ্যাপ ব্যান করার সিদ্ধান্ত গত সোমবারই নিয়েছে ভারত সরকার। এই তালিকায় সবার প্রথমে নাম রয়েছে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম টিকটকের। এছাড়াও ইউসি ব্রাউজার, শেয়ার ইট, শী ইন, ক্ল্যাশ অফ কিংস, হ্যালো, লাইক-এর মতো জনপ্রিয় অ্যাপগুলিও চলে গিয়েছে বাতিলের খাতায়।
কিন্তু এবার টিকটক ব্যান করে দেওয়াকে কেন্দ্রীয় সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিনেত্রী নুসরত জাহান। যদিও তিনি জানিয়েছেন যে দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি মোদী সরকারের এই পদক্ষেপ সমর্থন করছেন কিন্তু এই পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় সরকারের আরও ভাবনা চিন্তা করা উচিত ছিল বলে মনে করছেন জনপ্রিয় ‘টিকটকার’ এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি লাদাখের গালওয়ানে লাল ফৌজের আগ্রাসন এবং ভারতীয় সেনা জওয়ানদের শহীদ হওয়ার ঘটনার পরই চীনা সংস্থাগুলির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে ভারত। তারপরেই বুধবার এরকম মন্তব্য করলেন তৃণমূল সাংসদ, যা নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
বুধবার ইসকনের ৪৯তম রথযাত্রা উপলক্ষে স্বামী নিখিল জৈনকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন নুসরত। সেখানে তাকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন এই অ্যাপ বন্ধ করে দিয়ে অনেক তরুণের রোজগার বন্ধ করে দেওয়া হল।
তাঁর কথায়, “আমি একজন পারফর্মার, এন্টারটেইনার। বাকি সোশ্যাল মিডিয়ার মতো টিকটকও আমার কাছে স্রেফ একটি প্লাটফর্মই ছিল।”
এরপরই তিনি বলেন যে, দেশের তরুণ সমাজের একটা বড় অংশ টিকটকের মাধ্যমে রোজগার করত, তারা এখন বেকার হয়ে গেল। এই ব্যাপারে মোদী সরকার কী ভাবছে? এক রাতের মধ্যে ডিমনিটাইজেশন করে যেরকম সাধারণ মানুষকে অসুবিধায় ফেলেছিলেন মোদী, এবারও তো সেরকমই করা হল!
অ্যাপ নিষিদ্ধ হলেই চীনা আগ্রাসন কমে যাবে না, প্রয়োজন বিকল্প পরিকল্পনার। কেন্দ্রীয় সরকার কোনো বিকল্প পরিকল্পনা ছাড়া এরকম হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে মোটেও ঠিক কাজ করেনি, মত নুসরত জাহানের।
তার এই মন্তব্যের পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে উঠতে শুরু করেছে বিতর্কের ঝড়। তিনি ডিমনিটাইজেশন এর সঙ্গে টিকটক ব্যান করে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কী করে এক আসনে বসালেন সেই প্রশ্নই করছেন অনেকে।
অন্যদিকে, বাংলা ধারাবাহিকের জনপ্রিয় মুখ ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়েরও টিকটক অ্যাকাউন্ট ছিল। যদিও গালওয়ানের ঘটনার পর থেকে আর টিকটক করেন না তিনি। তাঁর সাফ কথা, “দেশ আমার কাছে সবার আগে, প্রয়োজন হলে আরও বড় স্বার্থও ত্যাগ করতে রাজি”।





