লকডাউন থেকে লাগাতার বন্ধ রয়েছে শুটিং। যার জেরে আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন টলিপাড়ার কলাকুশলী থেকে টেকনিশিয়ানরা। সম্প্রতি ৩৫ জনকে নিয়ে শুটিং শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয় রাজ্যের তরফে কিন্তু তাতেও মেটেনি সমস্যা। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বক্তব্য শুটিং চলাকালীন তাদের বিনা প্রটেকশনে কাজ করতে হবে। সেক্ষেত্রে করোনা সংক্রামিত হওয়ার প্রবল স্বভাবনা থেকে যায়। এ ক্ষেত্রে তাদের কিছু হয়ে গেলে তাদের পরিবারের দায়িত্ব কে নেবে? তাই আজ জুনের ১০ তারিখও কোনো সুরাহা মিলল না এই সমস্যার।
বাংলা চলচ্চিত্র সংস্কৃতি কমিটির দাবি শুটিং শুরু করার পূর্বে বিমার কাগজ হাতে চাই। যতদিন না বিমার কাগজ হাতে আসছে, ততদিন সমস্ত কলাকুশলীদের দায়িত্ব চ্যানেলকে নিতে হবে। একইসঙ্গে তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, তাদের দাবি না মানা হলে ৫০০০ জন অনশনে বসবে। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানান বঙ্গীয় চলচ্চিত্র সংস্কৃতি কমিটির দক্ষিণ কলকাতার সভাপতি এন মোহন রাও ও সাধারণ সম্পাদক মিলন ভৌমিক।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে আরও বেশ কয়েকটি বিষয়ে তোপ দাগে বাংলা চলচ্চিত্র সংস্কৃতি সংঘ। তাদের কথা, “এটা কি চা না পান বিড়ির দোকান যে একটা বিশেষ গোষ্ঠী এটাকে দখল করে বসে আছে। শ্যুটিং শুরু হবে কিনা, কিভাবে শুরু হবে তা না বলেই হুট করে শুরু হচ্ছে। আর ৩৫ জনেকে নিয়ে শ্যুটিং হতে পারে না। কমপক্ষে ৮০ জনকে নিতে হবে।৪ জুনের মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হল আর্টিস্টরা শুধু বিমার টাকা পাবেন। তাহলে টেকনেশিয়ানদের কি হবে? অভিনেতা-অভিনেত্রীরাই তাহলে শুধু কাজ করবেন? নবান্ন থেকে বলা হয়েছে, টেকনেশিয়ানদের নাকি কোনও টাকা দেওয়া হবে না। তাহলে টেকনিশিয়ানদের কিছু হলে তখন তাদের দায়িত্ব কি নেবে? আসলে সরকার গরিবদের চায় না। কারণ ভোটের সময় তারা কোনো কাজে আসে না। প্রচারের জন্য অভিনেতাদেরই প্রয়োজন বেশি, তাদেরই তো টিকিট দেওয়া যায়।”
একইসঙ্গে তাঁরা আরও বলেন, “নুসরত, মিমি বা দেব কাউকেই তো এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ৩৫ জন তাঁরাই কাজ পাবেন, যারা কাটমানি দেবেন। অরূপ বিশ্বাস সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছেন জয় শাহ কীভাবে বিসিসিআই-এর হেড হতে পারেন। এবারআমরা প্রশ্ন করছি, স্বরূপ বিশ্বাস তাহলে কীভাবে হলেন? অমিত শাহ যে দশ বছরের হিসেব চেয়েছেন, তা কি কোনোদিন দিতে পারবেন মুখ্যমন্ত্রী? পারবেন না। কারণ, মানুষকে শুধু বিভ্রান্ত করাই এদের কাজ।”





