বক্স অফিস এই মুহূর্তে রমরমিয়ে চলছে পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর ছবি ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’। চারটি বিজেপি শাসিত রাজ্যে এই ছবির টিকিট করমুক্ত করা হয়েছে। অসম ও মধ্যপ্রদেশ সরকার এই ছবি দেখার জন্য সরকারি কর্মচারীদের অর্ধেক দিনের ছুটি ঘোষণা করেছেন।
এই ছবি দেখে মুগ্ধ হয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ছবির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপর নির্যাতন ও তাদের কাশ্মীর থেকে নির্বাসিত করার মতো বিষয় উঠে এসেছে এই ছবিতে। একদিকে দর্শক এই ছবি দেখে যেমন আপ্লুত, তেমনই আবার একাংশের দাবী যে এই ছবিকে বিজেপি উদ্দেশ্যমূলক প্রচার হিসেবে ব্যবহার করছে।
এই ছবির প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি এই ছবি সম্পর্কে বলেছেন, “সব জায়গায় কাশ্মীর ফাইলস ছবির চর্চ্চা চলছে। আর যাঁরা ছবিটির ধ্বজাধারী হয়ে ঘোরে তাঁদের মাথা ঘুরে গেছে। তথ্য আর শিল্পের উপর তৈরি এই ছবির প্রশংসা না করে ছবিটিকে পিছনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কেউ যদি সত্যি ঘটনা তুলে আনার সাহস দেখাচ্ছে কিন্তু সেই সত্যি মেনে নেওয়ার সাহস নেই, সেই সত্যি সকলে জানুক তা মেনে নেওয়ার সাহস নেইম তাই বিগত ৪-৫ দিন ধরে ষড়যন্ত্র চলছে। সত্য ঘটনা তুলে আনা সবসময় দেশের পক্ষে হিতকর। তার অনেক দিক থাকতে পারে। যার মনে হয়েছে এই ছবিতে ভুল দেখানো হয়েছে সে আরেকটা ছবি বানাক”।
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে বলিউডের অন্য এক পরিচালক বিনোদ কাপরি ঘোষণা করেন যে তিনি গুজরাত দাঙ্গার উপর ভিত্তি করে ‘গুজরাত ফাইলস’ নামের একটি ছবি বানাতে চান। তিনি এমন প্রশ্নও তুলেছেন যে সেই ছবি কী আদৌ মুক্তি পেতে দেওয়া হবে?
বিনোদ কাপরি তাঁর প্রথম টুইটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ট্যাগ করে লিখেছেন, “তথ্য ও শিল্পের উপর ভিত্তি করে গুজরাত ফাইলস নামে একটি ছবি তৈরি করতে আমি প্রস্তুত এবং এই ঘটনায় আপনার ভূমিকাও বিশদভাবে উল্লেখ করা হবে। আজ দেশের সামনে আমাকে আশ্বস্ত করবেন নরেন্দ্র মোদীজি যে আপনি ছবির মুক্তি আটকে দেবেন না”?
তাঁর দ্বিতীয় টুইটে পরিচালক লেখেন, “আমার প্রথম টুইটের পর কিছু প্রযোজকের সঙ্গে কথাও হয়েছে। তাঁরা গুজরাত ফাইলস তৈরি করতে প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী এখন যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলছেন, সেটা যে পরেও থাকবে এই নিশ্চয়তা প্রয়োজন”।
বিনোদ কাপরির এই টুইট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কেউ কেউ পরিচালককে সমর্থন করে এই ছবি তৈরি করার জন্য উৎসাহ জুগিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন যে এই ছবির প্রথম দৃশ্য যেন শুরু হয় সবরমতী এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি কামরা থেকে যেখানে ৫৯ জন নিরীহ হিন্দু করসেবককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।





