‘৩৮টা কেমোর পর হাতে আর শিরা বাকি নেই’, মারণ রোগের সাথে লড়ে জীবন যুদ্ধে জয়ী হয়ে আজও দাপিয়ে অভিনয় করছেন চন্দন সেন

Chandan Sen: তাঁর জীবনশক্তি সকলকে লড়তে শেখায়। মারণ রোগের সাথে লড়াই করে জীবন যুদ্ধে জিতেছেন অনেকে, তবে তিনি ব্যতিক্রম। এখন কেমন রয়েছেন এ প্রশ্নের উত্তরে সর্বদা তার মুখে একই উত্তর, ‘কর্মক্ষম’। অভিনয়ের জন্য চিকিৎসায় গাফিলতি করতে দ্বিধা করেননি অভিনেতা চন্দন সেন (Chandan Sen)

প্রথম যখন ক্যান্সার ধরা পড়ল কিভাবে ব্যাপারটা মেনে নিয়েছিলেন। এই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেতা (Chandan Sen) বলেন, “আমি কেন? তারপর আমার আশপাশের মানুষজন আমাকে এমন ভাবে ঘিরে ধরল। আমার ডাক্তার আমাকে এনআরএস-এ ডেকেছেন। যে ঘরে ঢুকবো, তার সামনে সবাই যারা কেমো নেবেন বসে রয়েছেন। তাদের সঙ্গে একটা লোক হয়তো বউ বা সন্তান বসে রয়েছে। আমার সাথে চারটে লোক। এই জিনিসটা যখন প্রথম মনে হল, তখন বুঝলাম আমি অনেক বেশি প্রিভিলেজড”।

ক্যান্সারের চিকিৎসায় ভয়েসবক্স নষ্ট হয়ে যেতে পারত,‌ তিনি (Chandan Sen) চিকিৎসককে বারণ করে দিয়েছিলেন সেখানে রে দিতে। এ প্রসঙ্গে অভিনেতা (Chandan Sen) বলেন, “একটা কাঠের উপর ওরা এক্সপেরিমেন্ট করে, আমার ভয়েস বক্স বাঁচানোর জন্য। আমার ৩৮টা কেমোর পর হাতে আর শিরা বাকি নেই। এবার যদি কিছু হয় গলা কেটে ঢোকাতে হবে এছাড়া আর কোনো রাস্তা নেই। মোট ৩৫টার মতো‌ কেমো চলেছে।”

ডাক্তাররা পারিশ্রমিক নেননি, শুধু চেষ্টা করেছেন কিভাবে সুস্থ করে তুলবেন। ডাক্তারদের কাছে অভিনেতা কৃতজ্ঞ। তিনি (Chandan Sen) বলছেন, “আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ আমার ছয় জন ডাক্তারের কাছে। যারা একটা পয়সাও নেয়নি। ওরা বলেছিল একদিন খারাপ পাঠ করে দেখো না, তোমার কাছ থেকে কিভাবে টাকা আদায় করতে হয় আমরা জানি। অন্যান্য বন্ধুরা যারা একর একর জমির মালিক, তারাই আমাকে একটা সময় ধার দিয়েছে। এই ঘটনার পর আমার মনে হয়েছিল আমি সারা জীবন যা করেছি ঠিক করেছিলাম নয়তো এত মানুষ আমার জন্য এগিয়ে আসতো না।”

এমন একটি কঠিন সময় ইন্ডাস্ট্রি পাশে ছিল অভিনেতার? চন্দন সেনের (Chandan Sen) কথায়, “ভাস্কর ব্যানার্জি, শান্তিলাল মুখার্জী এরা জনে জনে গিয়ে আমাকে টাকা দিয়েছে। কৌশিক সেন,বাত্য বসু এরা পরপর সাতদিন টাকা তোলার জন্য, আমার জন্য শো করেছে। তাই আমার এদের প্রতি বিরাট দায় আছে।” অদম্য জেদ, মনোবল, কাজের প্রতি সততা ভাঙতে পারেনি তাকে, বন্ধ করতে পারেনি তার অভিনয়। তিনি আজও শিক্ষক। নাটকের মঞ্চ হোক বা বড় পর্দা তিনি আজও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

RELATED Articles