ম’দ্যপ অবস্থায় স্বামীর অমানবিক নি’র্যাতন থেকে প’ণের জন্য হু’মকি! বিচ্ছেদ মামলায় আদালতের রায়ের পর বি’স্ফোরক অভিযোগ দেবলীনার! পাসপোর্ট বাজেয়াপ্তের দাবি, প্রবাহর উড়ান নিয়েও প্রশ্ন তুললেন গায়িকা!

টলিউডের পরিচিত গায়িকা দেবলীনা নন্দী এবং তাঁর স্বামী প্রবাহ নন্দীর দাম্পত্য কলহ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। চলতি বছরের শুরুতেই তাঁদের সম্পর্ক ভাঙনের খবর প্রকাশ্যে আসে। এরপর দেবলীনার আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনাও আলোড়ন ফেলে। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পরও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি বলে জানা যায়। সম্প্রতি চন্দননগরে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের জিনিসপত্র আনতে গিয়ে ফের হেনস্থার অভিযোগ তোলেন গায়িকা। এর মধ্যেই স্বামী প্রবাহ নন্দীর বিরুদ্ধে বারুইপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। ১৯ জুন সেই মামলার শুনানির পর দেবলীনা এবং তাঁর আইনজীবীরা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আনেন।

সংবাদমাধ্যমের সামনে দেবলীনা জানান, তিনি প্রথম থেকেই বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে আইনের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া তাঁর সামনে আর কোনও পথ ছিল না। তিনি বলেন, “আমি হয়তো এত দূর এগোতাম না কিন্তু উল্টোদিক দিক থেকে আমাকে বারবার হেনস্থা করা হচ্ছে তাই আমাকে আইনি পথে এগোতে হচ্ছে। আমি সবার সঙ্গে আলোচনা করে কিছু স্টেপ নিয়েছি।” গায়িকার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। সেই কারণেই তিনি এখন আইনিভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আদালতের শুনানির পর তাঁর বক্তব্য নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

দেবলীনার আইনজীবী শুভম কাঞ্জিলাল জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে দেবলীনা ও প্রবাহের বিয়ে হয়। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই দেবলীনার উপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার শুরু হয়। এমনকি বিয়ের দিনেই দেবলীনার মাকে গায়ের রঙ নিয়ে অপমান করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। আইনজীবীর আরও অভিযোগ, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে থাইল্যান্ডে হানিমুনে গিয়ে মদ্যপ অবস্থায় দেবলীনার গায়ে হাত তোলেন প্রবাহ। শুভম কাঞ্জিলাল বলেন, “প্রবাহ নন্দীর বাড়ির তরফ থেকে এতটাই মানসিক অত্যাচার করা হতো যে দেবলীনা বাধ্য হয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। এরপরেই প্রবাহর বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটা হয়। কিন্তু দেবলীনা যখন নিজের জিনিস আনতে যান শ্বশুরবাড়িতে, তখনও তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। পরে কিছু জিনিস উদ্ধার করা হলেও গলার হার, মানতাসা এইসব কিছু উদ্ধার সম্ভব হয়নি।”

আইনজীবীর দাবি, দেবলীনা প্রথম থেকেই সংসার টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এর মধ্যেই প্রবাহর পক্ষ থেকে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, শারীরিক নির্যাতনের চিহ্ন শরীরে থাকলেও দেবলীনা তা দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে আনেননি এবং মেকআপের সাহায্যে আড়াল করে রেখেছিলেন। সম্প্রতি তাঁর একটি ব্যক্তিগত ভিডিওও অন্যভাবে প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া প্রবাহর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, ফ্লাইট পরিচালনার আগে নির্দিষ্ট সময় মেনে তিনি মদ্যপান করতেন। দেবলীনার পক্ষের দাবি, প্রায় প্রতিদিনই মদ্যপ অবস্থায় তাঁর উপর অত্যাচার চালানো হতো। শুধু প্রবাহ নন, তাঁর বাবা-মাও গায়িকাকে মানসিকভাবে হেনস্থা করতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘২১ জুলাইয়ের সভার জন্য কি ইচ্ছাকৃতভাবেই অমা’ন্য করা হয়েছিল হাই কোর্টের নির্দেশ?’ আদালত অবমা*ননার অভি’যোগে মমতা-অভিষেককে নোটিস, নতুন আইনি চা’পে তৃণমূল শিবির!

এছাড়াও দেবলীনার মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, মায়ের ফ্ল্যাটে ওঠার অনুমতি ছিল না এবং তাঁকে নিচেই অপেক্ষা করতে হতো। সম্প্রতি চন্দননগরে দেবলীনার গাড়িকে অনুসরণ করার ঘটনায় দুটি FIR দায়ের করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। গায়িকার পক্ষ থেকে এখন প্রবাহর পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা চলছে, যাতে তিনি দেশের বাইরে যেতে না পারেন। এই প্রসঙ্গেই দেবলীনা বলেন, “Air India-রও ব্যাপারটা দেখা উচিত কারণ যে দু তিনজন মানুষকে নিয়ে সংসার করতে পারছে না, সে ২০০-৩০০ জন যাত্রী নিয়ে প্লেন কি করে চালাবে?” আদালতের বাইরে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর