“বাবা এয়চো”, “রক্কে করো রগুবীর”, এই ধরণের সংলাপগুলির সঙ্গে কমবেশি আমরা সকলেই পরিচিত। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, সংলাপটি ‘করুণাময়ী রানী রাসমনি’ ধারাবাহিকের। খুব কম দর্শকই এমন আছেন যারা এই ধারাবাহিক দেখতে পছন্দ করেন না। এই সংলাপগুলি ধারাবাহিকের মুখ্য চরিত্র রানিমা অর্থাৎ দিতিপ্রিয়ার মুখেই উচ্চরিত হয়। শুরুর হওয়ার দিন থেকেই এই ধারাবাহিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। টিআরপির দৌড়েও বরাবরই প্রথমের দিকেই থাকে এই ধারাবাহিক। তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি জুটেছে সমালোচনাও।
সমালোচনা বলতে গেলে সরাসরি দিতিপ্রিয়াকে নিয়ে নয়, তাঁর কথা বলার ভঙ্গি নিয়ে। ধারাবাহিকের সময়কাল পুরনো দিনের। সেই সময় মানুষ যেভাবে কথা বলত, এই ধারাবাহিকেও তাই-ই দেখানো হয়েছে। দিতিপ্রিয়ার এই ‘বাবা এয়চো’, ‘রক্কে করো রগুবীর’ সংলাপগুলি নিয়ে ২০১৮ সালে শুরু হয় সাংঘাতিক ট্রোল।
মিম বানানো এখন যেন ট্রেন্ড হয়ে গেছে। নতুন কিছু ঘটলেই তা নিয়ে শুরু হয় মিম বানানো। তবে এই মিমের মাত্রা যখন শালীনতা ছাড়িয়ে যায়, তখনই তা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এমনকি জাকেনিয়ে মিম বানানো হচ্ছে, তার বয়সের কথাও মাথায় রাখেন না মিমাররা।
দিতিপ্রিয়ার উক্ত সংলাপগুলি নিয়েও শুরু হয় মিম বানানো। কিন্তু তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ শুরু হয় তখনই যখন তাঁর এই ‘এয়চো’ শব্দটির সঙ্গে পর্নস্টার জনি সিনসের একটি মিম তৈরি হয়।
এই মিম দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন নেটিজেনদের একাংশ। সকলেরই অভিযোগ ছিল একটি বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে এই ধরণের কুরুচিকর মিম কেন? যদিও এই বিষয় নিয়ে দিতিপ্রিয়া কোনও মন্তব্য করতে রাজী হননি। তবে এর তীব্র বিরোধিতা করেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। বলেন, “ক্লাস ইলেভেনের ছাত্রীকে নিয়ে এই ধরণের মিম তৈরি করার আগে দু’বারও ভাবল না অ্যাডমিন। বাচ্চা একটা মেয়ে ভারী শাড়ি, গয়না পরে শট দিচ্ছে। পেশাগত জীবন বাদে তার একটা ব্যক্তিগত জীবনও রয়েছে। এই ধরণের মিম কেউ তৈরি করে কী করে?” পরিচালকের মতে, এই ধরণের মিম মানুষের নোংরা মানসিকতারই পরিচয় দিয়েছে। কেউ কেউ এই ঘটনার নিন্দা করলেও বেশিরভাগ মানুষই এই মিমকে বেশ উপভোগই করেছেন।





