দেখতে দেখতে বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে ১৭ বছর হয়ে গেল এই সুন্দরীর। আজ ৩৭-এ পা দিলেন ক্যাটরিনা কাইফ। মাত্র ২০ বছর বয়সে একজন আউটসাইডার হিসেবে বলিউডে ডেবিউ করেছিলেন ক্যাট। আজ সেখানে তিনি বলিউডের অন্যতম হাইয়েস্ট পেইড নায়িকা।

(১/১২). ১৯৮৩ সালের ১৬ই জুলাই হংকংয়ে জন্ম ক্যাটরিনার। মা ব্রিটিশ-বাবা কাশ্মীরি কিন্তু ব্রিটিশ নাগরিক। ফলে ক্যাটের সৌন্দর্য্য যে বংশপরম্পরায় প্রাপ্ত সে নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। আমরা ক্যাটরিনার বোন হিসেবে শুধু ইসাবেলা কে দেখতে পাই, আসলে কিন্তু ক্যাটরিনারা আট ভাই বোন। ক্যাটরিনার তিন দিদি, এক ভাই ও তিন বোন রয়েছে। যদিও তার বাবা-মা-র ক্যাটরিনার ছোটবেলাতেই ডিভোর্স হয়ে যায়। ক্যাটরিনা ও তার দিদি, ভাই, বোনেরা মায়ের কাছে মানুষ হন।

(২/১২). ক্যাটরিনা প্রথমে তাঁর পদবী হিসাবে তাঁর মায়ের পদবী টার্কোয়েট গ্রহণ করেন। যদিও পরবর্তীকালে তিনি তার বাবার পদবী কাইফ গ্রহণ করেন কারণ তিনি মনে করেছিলেন যে এই পদবী উচ্চারণ করা সোজা।

(৩/১২). ক্যাটরিনা বলিউডে ডেবিউ করেন মডেল হিসাবে। বলিউডে তাঁর প্রথম ছবি বুম (২০০৩)। এই বুম ছবির শুটিং করার সময় তিনি অন্যান্য ছবির অফার পেতে শুরু করেন এবং তিনি ঠিক করেন যে তিনি ভারতেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করবেন। কিন্তু ক্যাটের নাগরিকত্ব ব্রিটিশ।

(৪/১২). প্রথম ছবি বুম একদমই চলেনি, যদিও তাতে অমিতাভ বচ্চন, জ্যাকি শ্রফ, পদ্ম লক্ষ্মীর মত বড় বড় তারকারা ছিলেন। কিন্তু হাল ছাড়েননি ক্যাটরিনা। তার সুন্দর দৈহিক শৈলী ও মায়াবী হাসি দিয়ে নজর কেড়েছিলেন সকলের যদিও অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন যে তিনি ঠিক করে হিন্দি বলতে পারেননা, অভিনয়টাও জানেন না। প্রথম ছবির ব্যর্থতার কারণে অনেক প্রজেক্ট হাতছাড়া হয়েছিল ক্যাটের তবুও তিনি যেন জানতেন যে পরবর্তীকালে ইন্ডাস্ট্রিতে রাজ করবেন তাই হাল ছাড়েননি তিনি। যদিও ততদিনে ভারতে বড় বড় ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনী মুখ হিসেবে তাঁর যথেষ্ট পরিচিতি ছড়িয়ে ছিল।

(৫/১২). এরপর ২০০৪ সালে মল্লিশ্বরী ছবি দিয়ে দক্ষিণ ইন্ডাস্ট্রিতে কেরিয়ার শুরু করেন ক্যাটরিনা। এই ছবি অবশ্য বক্সঅফিসে সাফল্য পেয়েছিল কিন্তু সমালোচকদের মন জয় করতে পারেনি।

(৬/১২).এরপরেই ভাইজানের চোখে পড়েন ক্যাটরিনা। ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য সলমান বিখ্যাত। এরপর শুরু হয় ভাইজান ও ক্যাটরিনার প্রেম সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন। ততদিনে মুক্তি পেয়েছে সলমান ও ক্যাটরিনা অভিনীত ম্যায়নে পেয়ার কিঁউ কিয়া। যদি এই ছবিতেও সমালোচকদের প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ক্যাটকে।

(৭/১২). এরপর ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত নমস্তে লন্ডন ছবির মধ্য দিয়ে বলিউডে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন ক্যাটরিনা। এরপর ওয়েলকাম ও ‘শিং ইজ কিং’-এর মত কমেডি ছবিতে দেখা যায় ক্যাটকে। অক্ষয় কুমারের সঙ্গে তার জুটি রীতিমত মনে ধরে দর্শকদের। এছাড়াও পার্টনার ও রেসের মত সিনেমায় তাকে দেখা গিয়েছিল। দর্শকরা ধীরে ধীরে পছন্দ করে ফেলেন ক্যাটরিনাকে।

(৮/১২). ২০০৯ সালে কবীর খানের ‘নিউ ইয়ার’ সিনেমাতেও ক্যাটের ভূমিকা প্রশংসিত হয়। এতদিন eye-candy হিসেবে অন্যান্য সিনেমাতে উপস্থিত থাকলেও এই ছবিতে অভিনেত্রী হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছিলেন ক্যাটরিনা এবং তিনি অনেকাংশেই সফল হয়েছিলেন। এছাড়া এই ছবিতে তিনি নিজের ডায়লগ নিজেই ডাবিং করেছিলেন।

(৯/১২). এরপর ২০০৯ সালে রণবীর কাপুরের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি অভিনয় করেন অজব প্রেম কি গজব কহানিতে। রিল লাইফ এর সঙ্গে সঙ্গে রিয়েল লাইফে ক্যাট প্রেম শুরু করেন রণবীর কাপুরের সঙ্গে যদিও পরবর্তীকালে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়।

(১০/১২). যশ চোপড়ার শেষ পরিচালিত ছবি ‘যব তক হে জান’ এই মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ক্যাটরিনা যা বলিউডের অনেক বড় বড় অভিনেত্রী সুযোগ হয়নি করার। ততদিনে বলিউডের সমস্ত খানের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি, সেই সঙ্গে একজন আইটেম ডান্সার হিসাবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন বলিউডে। তাঁর চিকনি চামেলি বা শীলা কি জওয়ানি অথবা কমলি আজও দর্শকদের মনোরঞ্জন করে।

(১১/১২). তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম ছবি রাজনীতি মুক্তি পায় ২০১১ সালে, যেখানে ক্যাটরিনা বুঝিয়েছিলেন যে তিনি মডেলিং ও নাচের সঙ্গে অভিনয়টাও পারেন। সেই সঙ্গে তিনি যে অ্যাকশন সিকুয়েন্স-এ সমান দক্ষ বুঝিয়ে দিয়েছেন এক থা টাইগার ও ফ্যান্টম সিনেমায়।

(১২/১২). এছাড়াও ধুম-থ্রি, জিন্দেগি মিলেগি না দোবারা, ভারত, ব্যাং ব্যাং, এক থা টাইগার, টাইগার জিন্দা হ্যায়-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবিতেও নিজের পরিচয় রেখেছেন ক্যাটরিনা। তার জন্মদিনের জন্য ‘খবর ২৪×৭’-এর তরফ থেকে রইল অনেক শুভেচ্ছা।





