সোশ্যাল মিডিয়ার যে কি ক্ষমতা, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ হলেন ভুবন বাদ্যকর। গ্রামে ঘুরে ঘুরে একসময় তিনি বিক্রি করতেন কাঁচা বাদাম। সেই বাদাম বিক্রির জন্য বাঁধা গানই যে তাঁকে এমন জনপ্রিয়তা দেবে, তা তিনি নিজেও হয়ত কল্পনায় ভাবতে পারেন নি।
ভুবন বাদ্যকর এখন বাদাম কাকু নামেই বেশি পরিচিত। শুধু দেশ নয়, দেশের বাইরের নানান মানুষও এখন চেনেন তাঁকে। ‘কাঁচা বাদাম’ গানের পর আরও গান তিনি বেঁধেছেন বটে, কিন্তু ‘কাঁচা বাদাম’-এর ধারেকাছে যেন সেসব কিছুই না।
এতদিন পর্যন্ত কাঁচা মাটির বাড়িতেই থাকতেন ভুবনবাবু। একটা ঘরেই পরিবারের একাধিক সদস্য নিয়ে কোনওমতে দিন কাটাতেন তারা। ঝড়জলে বেহাল অবস্থা হত সেই বাড়ির। জনপ্রিয়তা বাড়তে এবার নিজের পাকাবাড়ি বানাচ্ছেন ভুবন বাদ্যকর।
পুরনো সেই কাঁচাবাড়ি ছেড়ে নতুন পাকাবাড়িতে থাকতে শুরু করেছেন পরিবার নিয়ে। এখনও বাড়ির কাজ শেষ হয়নি। সেটাকে বাড়ি না বলে অট্টালিকাও বলা যায়। ৬ লক্ষ টাকা খরচ করে দোতলা বাড়ি বানাচ্ছেন বাদাম কাকু। সেই বাড়ি দেখলে যে কারোর চোখ আটকে যাবে।
পুরনো খড়ের চালের কাঁচা বাড়ির পাশেই তৈরি হচ্ছে ভুবন বাদ্যকরের নতুন পাকা বাড়ি। বেশ যত্ন নিয়ে বাড়িটি তৈরি করছেন তিনি। ঢালাই হয়ে গিয়েছে বাড়ির। ভেতরে কয়েকটি ঘরে তাঁর পছন্দ মতো নীল রঙের টাইলসও বসে গিয়েছে। এক ইন্টিরিয়র ডিজাইনার নাকি একটি ঘরের ভেতরটা সুন্দর করে সাজানোর জন্য নিজে থেকেই এগিয়ে এসেছেন। এখনও পর্যন্ত এই বাড়িটি বানাতে খরচ হয়েছে ৬ লক্ষ টাকা।
মনের মতো করে নিজের সাধের বাড়ি বানাচ্ছেন বাদাম কাকু। খরচ হচ্ছে হোক না। তিনি জানিয়েছেন যে পরে হ্যতি আরও টাকা লাগতে পারে। এর আগে যখন পুরনো একটি চারচাকা গাড়ি কিনেছিলেন, সেই সময় গান বেঁধেছিলেন তিনি। আর সাধের বাড়ি বানানোর সময় কোনও গান বাঁধবেন না, তা আবার হয় নাকি! বাদাম কাকুর নতুন গান, “ছিল না আমার বাসাবাড়ি, এখন হল পাকাবাড়ি”।





