সাংসদ হিসেবে তো তাঁর টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন হওয়া উচিত ছিল, এমন ধরণের মন্তব্য শেষ কয়েকদিন ধরেই শুনতে হচ্ছে যাদবপুরের সাংসদ তথা অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে। এবার উত্তরপাড়ার বিধায়ক তথা অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিকও টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে নানান নিয়মের উপরেই জোর দিলেন।
আজ, শনিবার নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র উত্তরপাড়ায় যান কাঞ্চন। সেখান থেকেই টিকা নিয়েছেন তিনি বলে জানান। তাঁর কথায়, “যে ভাবে জাল টিকা দেওয়া হয়েছে, সেটা অন্যায়। একেবারেই সমীচীন নয়। টিকা নিতে গেলে নাম নথিভুক্ত করতে হয়। তার জন্য আধার কার্ড লাগে। তার পর টিকা হয়। ফোনে মেসেজ আসে। সচেতন মানুষ হিসেবে সেই বিধিগুলো মানতে হবে”।
আরও পড়ুন- গুরুতর অসুস্থ অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী, ভুয়ো টিকাকরণ কেন্দ্র থেকে নিয়েছিলেন টিকা
কসবায় যে ভুয়ো টিকাকরণ কেন্দ্র চলছে, তা মিমির তৎপরতার কারণেই প্রকাশ্যে আসে। গত মঙ্গলবার সেই ভুয়ো টিকাকরণ কেন্দ্র থেকে টিকা নেন মিমি চক্রবর্তী। কিন্তু টিকা নেওয়ার পর তাঁকে কোনও শংসাপত্র দেওয়া হয় না বা তাঁর ফোনে কোনও মেসেজও আসেনি। এরপরই বিষয়টি নিয়ে খটকা লাগে অভিনেত্রীর। কলকাতা পুরসভা প্রশাসনকে জানান গোটা ঘটনা। এরপরই নিজেকে আইএএস নামে পরিচয় দেওয়া দেবাঞ্জন দেবের ভণ্ডামি সামনে আসে।
কিন্তু কোনও সরকারি জায়গা থেকে টিকা না নিয়ে মিমি কেন ওই টিকাকরণ কেন্দ্র থেকে টিকা নিলেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এই প্রসঙ্গেই বিধিনিয়ম নিয়ে দায়িত্ববোধের কথা তুললেন কাঞ্চন। শনিবার ভোররাত থেকেই অসুস্থ মিমি চক্রবর্তী। ভুয়ো টিকা নিয়েই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কী না, সে বিষয়ে নিজে নিশ্চিত নন বলেই জানান কাঞ্চন মল্লিক।
উত্তরপাড়া থেকে তিনি এও বলেন, “আমি এখান থেকে টিকা নিয়েছি। এ জন্য আধার কার্ডের তথ্য দিতে হয়েছে। টিকা নেওয়ার পর মেসেজ এসেছে আমার কাছে। সব কিছুর একটা নিয়ম আছে। তা মেনেই এগোনো উচিত”।
মিমির মতো একজন সাংসদ যেখানে প্রথমে দেবাঞ্জন দেবের ভণ্ডামি ধরতে পারেননি, সেখানে সাধারণ মানুষ জাল টিকাকরণ কীভাবে যাচাই করবে? কাঞ্চনের জবাব, “আমার মনে হয়, পুরসভা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতো সরকারি জায়গা থেকে টিকা নেওয়া বাঞ্চনীয়। যেখান থেকেই নিন, সচিত্র নথিভুক্তিকরণ হওয়া দরকার। তা হলে আস্থা থাকবে”।
আরও পড়ুন- জন্মদিনের আগেই মুক্তির আকাঙ্ক্ষা! কার থেকে মুক্তি চাইছেন রুক্মিণী? দেবের থেকে?
তবে এই ভুয়ো টিকাকরণ কাণ্ড প্রকাশ্যে আসতেই বেজায় অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল। কারণ এই কাণ্ডে ধৃত দেবাঞ্জন দেবের সঙ্গে শাসকদলের হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীদের নানান ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি।





