১৯৫৫ সালের ১৯শে জুন কলকাতায় জন্ম মিঠু মুখার্জীর (Mithu Mukherjee)। পিতার নাম সমর মুখোপাধ্যায়। ছোট থেকেই মিঠু পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ শিখেছিলেন মনোযোগ দিয়ে। সেন্ট থমাস স্কুলের ছাত্রী মিঠু লেখাপড়াতে ভালো ছিলেন। পরবর্তীতে কে এল কাপুরের যোগাযোগে সিনেমা জগতে এসেছিলেন। তবে তার আগে অনেক নাটক করেছেন তিনি। পরিচালক চিত্ত বসুর শেষ পর্ব ছবিতে সুমিত ভঞ্জের বিপরীতে অভিনয় করে মিঠু মুখার্জী সকলের নজর কাড়েন। বাংলা চলচ্চিত্রে তার উল্লেখযোগ্য তিনটি ছবি হলেও মৌচাক, মর্জিনা আব্দুল্লাহ ও স্বয়ংসিদ্ধা। মর্জিনা আব্দুল্লাহ ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭৩ সালে। পরিচালক ছিলেন দীনেন গুপ্ত। এই ছবিতে উৎপল দত্ত, রবি ঘোষের মত অভিনেতাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অসাধারণ অভিনয় করেছিলেন মিঠু মুখার্জী (Mithu Mukherjee)।
দীনেন গুপ্ত তাকে (Mithu Mukherjee) খুঁজে বার করে মর্জিনার চরিত্রে কাজ করেছিলেন। ছবিটি ব্যাপক সাফল্য পায় কিন্তু এরপরে বছর দুয়েক মিঠু মুখার্জীকে ছবি করতে দেখা যায়নি। শোনা যায় মনের মত নায়িকার রোল না পাওয়ায় তিনি অভিনয় করেননি। এরপরই আসে সুবর্ণ সুযোগ। অরবিন্দু মুখোপাধ্যায় এর মৌচাক ছবিতে মনের মত দারুন রোল পেয়ে গেলেন মিঠু (Mithu Mukherjee)। ১৯৭৫-এ মুক্তি পায় মৌচাক। ছবিতে উত্তম কুমার, সাবিত্রী সাবিত্রী চ্যাটার্জী সহ তাবড় তাবড় অভিনেতা অভিনেত্রীদের সঙ্গে রঞ্জিত মল্লিকের নায়িকা হয়ে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি। এই ছবিটিও হিট করেছিল। মর্জিনা আব্দুল্লাহ ছবিটি দেখে মিঠুর অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে পরিচালক নিজে এই ছবিতে তাকে কাস্ট করেছিলেন।
রঞ্জিত মল্লিক ও মিঠুর (Mithu Mukherjee) জুটি দর্শকদের মনে ধরেছিল। ১৯৭৫ সালে মুক্তি পায় রঞ্জিত মিঠু জুটির আরো একটি ছবি স্বয়ংসিদ্ধা। এই ছবিটিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। রঞ্জিত মল্লিক মিঠু (Mithu Mukherjee) প্রসঙ্গে বলেছিলেন,”ও খুব ভালো অভিনেত্রী। কোন সিন ওকে একবারের বেশি দুবার বোঝাতে হয় না।পর্দায় নিজের অভিনয় খুব সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলতেন তিনি। কিন্তু একটা কথা ভাবলে খারাপ লাগে যখন বাংলা ছবিতে ওকে সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল তখনও বম্বে চলে গেল।” যদিও বেশ কিছু ছবিতে কাজ করেছিলেন মিঠু মুখার্জী। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, হোটেল স্নোফক্স, চাঁদের কাছাকাছি। বলিউডে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল তার কেরিয়ারে। খান দোস্ত ছবিতে যখন মিঠুর (Mithu Mukherjee) অভিনয়ের সুযোগ আসে তখন তিনি কোনো দ্বিধা না করেই বলিউডে পাড়ি দেন।
এরপর ১৯৭৭-৭৮-এ বলিউডে বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন। তবে তিনি বুঝে গেছিলেন হিন্দি ছবিতে খুব ভালো চরিত্র তিনি পাবেন না। অন্যদিকে বাংলাতেও এসে গেছেন অনেক নতুন নতুন নায়িকা। মহুয়া রায় চৌধুরী তখন বাংলাকে মাতিয়ে রেখেছিলেন। মিঠু (Mithu Mukherjee) বলিউডে গিয়ে ভুল করেছিল বাংলা হিন্দি দুটো দিক সামাল দিতে পারেননি। তাকে শেষবার অভিনয় করতে দেখা যায় আশ্রিতা ছবিতে। ১৯৯০ সালে আশ্রিতা ছবিটি মুক্তি পায়। মিঠুর (Mithu Mukherjee) বিপরীতে ছিলেন কানুয়ালজিত। প্রযোজক ছিলেন মিঠু নিজেই।
দুর্দান্ত চিত্রনাট্য, গানের জন্য ছবিটি দারুন হিট করেছিল। তবে এরপর তাকে আর অভিনয় বা প্রযোজনা করতে দেখা যায়নি। এখন ৬৮ বছর বয়সে মুম্বাইয়ে সংসার জীবন অতিবাহিত করছেন মিঠু মুখার্জী (Mithu Mukherjee)। বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের দর্শকদের মনে আজও তার আসন এখনও উজ্জ্বল। অনেকেই মনে রেখেছেন তাকে।






