বেঙ্গল আর্ট ফ্যাক্টরির ১৯১ তম প্রদর্শনী। তীব্র গরমকে উপেক্ষা করে চলছে এই আর্ট প্রদর্শনী। বেঙ্গল আর্ট ফ্যাক্টরির ১৯১ তম প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন পি সি সরকার জুনিয়ার কন্যা মৌবনী সরকার (Moubani Sorcar)। মৌবনী সরকারের তিনটি আর্টওয়ার্ক প্রদর্শিত হয়েছে সেই প্রদর্শনীতে।
এই প্রদর্শনী নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মৌবনী (Moubani Sorcar) বলেছেন, “অনেক আর্টিস্টের মাঝে বেঙ্গলের আর্ট কে তুলে ধরার যে পরিকল্পনা বা সবাই মিলে এগিয়ে আসা এমন একটি কাজে, বেশ ভালো। প্রদর্শনী অনেক হয় তবে নির্দিষ্ট ভাবে এই প্রদর্শনীতে আমার কাছে খুব স্পেশাল। এখানে আমার তিনটে কাজ প্রদর্শনীতে গেছে। আশা করছি ভবিষ্যতে নানা রকমের কাজ দেখাতে পারব আপনাদের সামনে। আমার সোলো এক্সিবিশন নিয়েও ভাবনা-চিন্তা রয়েছে। এখানকার প্রত্যেকটা আর্ট ওর্য়াক যথেষ্ট রিসার্চ করা। এক্রেলিক, ওয়েল, মাইকা, রেডিয়াম, চারকোল দিয়ে সৃষ্টি করা। প্রত্যেকটি আর্ট এর ভাবনা খুব গভীর।”
মানুষের পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে তৈরি একটি ছবি প্রদর্শনীতে রেখেছেন মৌবনী সরকার (Moubani Sorcar)। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই এই ছবিটি প্রকাশ করেছেন মৌবনী বলে জানা গেছে। তার আর্টওয়ার্ক নিয়ে কথা বলেছেন সাক্ষাৎকারে।তার অপর একটি ছবির ভাবধারা তুলে ধরে বলেছেন, “এটি এমন একটা ছবি, দিনের এমন একটি সময়, যে সময়টা মনে হয় থমকে গেছে। সময়টা কোথাও আটকে গেছে, সময়টা নড়ছে না। ছবির আঙ্গিক তুলে ধরে তিনি বলেছেন, দিন ও রাত্রি একে অপরের প্রেমে পড়ে সময় সৃষ্টি করেছেন। আমি কসমিক টাইমে বিশ্বাসী, ঘড়ির কাঁটার টাইমে বিশ্বাসী নই।”
তৃতীয় ছবিটি এর অর্থ বর্ণনা করতে গিয়ে অভিনেত্রী (Moubani Sorcar) বলছেন, “এটি একটি মেয়ের অয়েল পেইন্টিং, মেয়েদের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন চিহ্নিত করা হয়েছে বহু যুগ ধরে। আমার মনে হল একটি মহিলা সে যখন একটা সুযোগ পাচ্ছে তার আগে এসে নিজেকে যেভাবে খুলে-মেলে ধরছে। আমি চাই মেয়েরা উড়ে যাক। যখন সুযোগ আসে এমন অনেক সময় মেয়েরা নিজেদেরকে গুটিয়ে ফেলে, আশা ভরসা দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত। ছবির এই মেয়েটি যার রয়েছে আগুনের পাখা লেজ রয়েছে মাছের মত। সে সাঁতরাতে পারে, উড়তে পারে রয়েছে ম্যাজিকেল ক্ষমতা। মহিলাদের জন্য আমি এখানে একটা মেসেজ দিয়েছি যে ওরা আরো অনেক কিছু করতে পারে চাইলেই। মহিলাদের মধ্যে যে ক্ষমতা রয়েছে তা আমি বড় পর্দায় ফুটিয়ে তুলছি সেটা আমি এভাবেও মানে ক্যানভাসের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে চাই।”
আর্টকে সমাজের সাথে মিলিয়ে মৌবনী (Moubani Sorcar) বলেছেন, “সাধারণ বাড়ির মেয়েদের মধ্যে যে ক্ষমতা লুকিয়ে রয়েছে, আমরা অনেক কম ভেবেছি। তাদের আশ্বাস বিশ্বাস ভরসা দিয়েছি। এখনকার দিনে এসে আমরা ছেলেমেয়েদের ইকুয়াল বলছি। প্রথম যুগে এটা সমান ছিল। তবে মাঝে এসে কেউ যেন ঘেঁটে দিয়েছিল। পুরুষ পক্ষর কাছে এটাই বোঝাতে চাইছি মেয়েরা যদি নিজেদেরকে মেলে না ধরে, উচ্চশিক্ষিত না হয় তাহলে এটা সমাজের ক্ষতি। এটা তাদেরও বুঝতে হবে একে অপরকে পরিপূরক ভাবে চলতে হবে।”
কীভাবে নিজের এই গুণটার কথা জেনেছেন? এর উত্তরে মৌবনী (Moubani Sorcar) বলেছেন, “আমি অনেক ছোট বয়স থেকে আঁকি। আঁকতে ভালোবাসি।” সামনেই আমার বড় পর্দায় ছবি রিলিজ হচ্ছে। কেন টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায় না মৌবনীকে (Moubani Sorcar) তার উত্তর দিয়ে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “টেলিভিশনের পর্দা আমাদেরকে বেঁধে রাখে, তবে সিনেমা বা ওয়েব সিরিজে একটা চরিত্রের মধ্যে বহুমুখিতা ফুটিয়ে তোলা যায়। একটি ওয়েব সিরিজে এবার সিনেমাতে আমাদের ক্যানভাসের মধ্যে ফেলে রাঙানো হয়। আমার বাবা-মা আমার বন্ধু-বান্ধবরা আমাকে আমার আঁকা গুলোকে সকলের সামনে তুলে ধরতে শিখিয়েছে। আমার বিশ্বাস ছিল আমি এক ঘর ভর্তি একে তালা দিয়ে চলে যাব। সে জায়গাটা থেকে আমাকে বের করে এনেছে ওরাই।”





