‘ও অভিমানের কথা বলতে চেয়েছে, ভুল কিছু বলেনি, আমি রূপঙ্করের পাশে আছি’, কেকে-র মৃত্যু প্রসঙ্গে কথা বলতেই কটাক্ষের মুখে নচিকেতা

গত মঙ্গলবার কলকাতার বুকে ঘটে যায় এক দুর্বিষহ ঘটনা যা হয়ত কেউ কখনও কল্পনাও করতে পারে নি। এদিন নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠান করতে আসেন বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী কেকে। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে হোটেলে ফেরার পরই অসুস্থ বোধ করতে থাকেন তিনি। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কেকে-র মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। এই মঙ্গলবারই আবার কেকে-র অনুষ্ঠান চলাকালীন একটি ভিডিও পোস্ট করে সঙ্গীতশিল্পী রূপঙ্কর বাগচি বলেন, ‘হু ইজ কেকে’। তাঁর কথায়, বাংলার অনেক শিল্পীরাই কেকে-র থেকে অনেক বেশি উচ্চমানের। আর এরপরই তাঁর দিকে ধেয়ে আসে নানান কটাক্ষ। আর এদিন রাতেই কেকে-র আকস্মিক মৃত্যু হওয়ায় রূপঙ্করের দিকে কটাক্ষ আরও প্রবল হয়। তাঁর উপর ক্ষোভ বর্ষণ করেন কেকে-র অনুরাগী থেকে শুরু করে নানান তারকাই।

তবে ব্যতিক্রম নচিকেতা। তিনি রূপঙ্করের পাশে দাঁড়ালেন। সমর্থন করলেন তাঁকে। নচিকেতার কথায়, “আমি বিশ্বাস করি, ও (রূপঙ্কর) কেকে-কে কোনও ভাবেই ব্যক্তি আক্রমণ করতে চায়নি। ও শুধু একটা অভিমানের কথা বলতে চেয়েছে। বাঙালি শিল্পী যখন অন্য রাজ্যে যায়, তখন কয় টাকা পারিশ্রমিক পায়! আর বম্বের শিল্পী এখানে এলে কত পায়! সাধারণ মানুষ এসব জানেন না। অভিমানটা আছে, থাকবে। থাকাটাই স্বাভাবিক। রূপঙ্করও আমার থেকে ছোট। ছোটদের অভিমান অনেক বেশি। ওরা বাংলার কথা বলতে চায়। বাংলা সংস্কৃতিকে ওরা আন্তর্জাতিক করতে চায়। কিন্তু কষ্ট লাগে তখন, যখন দেখি, রূপঙ্কর যাদের হয়ে কথাটা বলল, আজ তারাই ওর পাশে নেই! এটা ঠিক হলো না। রাঘব, ইমনদের তো ওর পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল”

তিনি বলেন, “রূপঙ্করের অভিমানকে যদি আমরা বুঝতে না পারি, তাহলে তো ধরে নিতে হবে, আমাদের অনুভূতি বোধটাই চলে গেছে। তিনি আরো বলেন, ‘রাজার মতো মৃত্যু হয়েছে কেকের। এমন মৃত্যুই তো সকলে চায়। আমরা শিল্পীরা আসলে জনসমুদ্রে মিশে যেতে চাই। ওই ভিড়ে পিষ্ট হতে চাই। ভিড়ের চাপে মরে যেতে চাই। ওখানেই তো শিল্পীর সার্থকতা। শ্রোতাদের ভিড়ে এক জন শিল্পী মিশে গিয়ে জীবনের শেষ গান শোনাচ্ছেন, এটাই শিল্পীর স্বপ্ন”।

তিনি আরও বলেন, “আমি গত ৩০ বছর ধরে এই জনসমুদ্রে মিশছি। দুর্ভাগ্য, কেকে-র মতো মৃত্যু হল না”।

নচিকেতা শেষে জানান, “একটা ঘটনা ঘটে গিয়েছে। তাতে রূপঙ্কেরের কোনো দোষ নেই। হ্যাঁ, আমি নচিকেতা বলছি। আমি রূপঙ্করের পাশে আছি”। তবে কেকে-র মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করেন নচিকেতাও। তবে রূপঙ্করের পাশে দাঁড়ানোয় এবার নচিকেতার দিকেও ধেয়ে এসেছে একাধিক কটাক্ষ বাণ ও ক্ষোভ।

RELATED Articles

Leave a Comment