দেখতে দেখতে তিন মাস হতে চলল বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের (Sushant Singh Rajput) অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। মুম্বাই পুলিশ প্রথমে আত্মহত্যার তত্ত্ব খাড়া করলেও পরবর্তীকালে বিভিন্ন মহলের চাপানউতোরে শেষ পর্যন্ত এই মামলার তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের(CBI) হাতে। সেইসঙ্গে এই মামলায় যুক্ত হয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট এবং এনসিবির(NCB) মত কেন্দ্রীয় সংস্থা। কারণ এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত রিয়া চক্রবর্তীর(Rhea Chakraborty) সঙ্গে মাদকচক্রের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।
এরপরই নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো অর্থাৎ এনসিবি এই মামলায় পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করে। আরে সূত্র ধরেই বলিউডের ড্রাগ চক্রের রহস্য উদঘাটন করতে আটঘাট বেঁধেই মাঠে নেমেছে এনসিবি। এই মামলার সূত্র ধরে মঙ্গলবার চার মাদক পাচারকারীকে হেফাজতে নেওয়া হয় যার মধ্যে ২ জন মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো।
ওই দুই মাদক পাচারকারীর নাম জায়েদ ভিলাট্রা এবং আবদুল বাসিত পারিহার। তাদেরকে বান্দ্রা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে দুজনের সঙ্গেই রিয়া চক্রবর্তী এবং তার ভাই শৌভিক চক্রবর্তীর(Shoubhik Chakraborty) সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে আব্দুল এর সঙ্গে রাগ পাচার নিয়ে স্যামুয়েল মিরান্ডার সঙ্গে কথোপকথনের রেকর্ড ইতিমধ্যেই এনসিবি ও সিবিআইয়ের হাতে চলে এসেছে। শৌভিক চক্রবর্তীর কল ডিলেটস রেকর্ডেও নাম রয়েছে জায়েদ ভিলাট্রার।
জানা গিয়েছে যে এই দুই ড্রাগ পাচারকারী মধ্যে একজন জেরায় জানিয়েছে যে, শৌভিক চক্রবর্তী পাঁচগ্রাম ড্রাগ কেনার জন্য ১০০০০ টাকা দিয়েছিলেন। আজ সকাল ১১ টা নাগাদ এই দুই ড্রাগ পাচারকারীর মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে। এবার তাদেরকে আদালতে পেশ করা হবে। শৌভিক চক্রবর্তীকে এই মামলা সমন পাঠানো চলেছে এনসিবি। ইতিমধ্যে কঙ্গনা রানাওয়াত যে অভিযোগ জানিয়েছিলেন যে বলিউডে রীতিমতো ড্রাগ পাচার চক্র চলে, এনসিবির তদন্তে তা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসবে বলেই মত সকলে।
এছাড়া রিয়া চক্রবর্তীর এই মাদক যোগের সূত্র ধরে এনসিবি ৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিজেদের নজরে রেখেছে। এদের মধ্যে দুজন মহারাষ্ট্রের রাজনীতিবিদ, একজন নামকরা অভিনেতা ও একজন পরিচালক রয়েছেন। এনসিবির কাছে চিংকু পাঠান এবং ইমরান নামের দুই মাদক ব্যবসায়ীর নাম রয়েছে যারা মুম্বাইয়ের ফিল্ম সেটে এবং বান্দ্রা এলাকায় মাদক পাচার করে।
সোমবার ডিরেক্টরেট অফ রেভেনিউ ইন্টালিজেন্সের যৌথ ডিরেক্টর সমীর ওয়াংখেড়েকে আগামী ৬ মাসের জন্য এই মামলার প্রধান হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই রিয়া চক্রবর্তী ও তার পরিবার যে সহজে মুক্তি পাবে না একথা বলাই বাহুল্য!





