‘যে যুগে রবীন্দ্রনাথও ট্রোল হন, সেখানে আমি নগণ্য, তবে ট্রোলারদের মিমসগুলো বেশ ভালো’, ‘অতি উত্তম’ ছবির ট্রোলিং নিয়ে যা বললেন সৃজিত…

দীর্ঘ ৪৪ বছর পর বড়পর্দায় ফিরছেন উত্তম কুমার (Uttam Kumar)। তাঁর মৃত্যুর পর এই প্রথম কামব্যাক। শুনতে অবাক লাগছে? কিন্তু এটাই সত্যি। তাঁকে নতুন ভাবে বড় পর্দায় দেখা যাবে। উত্তম কুমারের মৃত্যুর পর তার এই প্রথম ছবি যেখানে তিনি হাঁটবেন, চলবেন, কথা বলবেন। অনেকে শুনে ঘাবড়ে গেল ব্যাপারটা ঠিক তা নয়। প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানের সাহায্যে বড়পর্দায় নতুন ভাবে উত্তম কুমারকে (Uttam Kumar) নিয়ে আসছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। আসছে তাঁর নতুন ছবি অতি উত্তম। অতি উত্তম ছবিটি ভারতের প্রথম ছবি যেখানে কোনও অভিনেতার মৃত্যুর পর তাঁর আগের ছবির ফুটেজ নিয়ে কাজ করা হয়েছে। পুরনো ফুটেজ ব্যবহার করে একটি গোটা ছবি বানিয়ে ফেলা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই মুক্তি পেয়েছে সেই ছবির ট্রেলার। ‘অতি উত্তম’ ট্রেলার দেখে খুবই উচ্ছ্বসিত সবাই। নব্বই শতাংশ মানুষ খুবই থ্রিলড বলছেন পরিচালক নিজেই। যে প্রযুক্তির সাহায্যে উত্তমকুমারকে নিয়ে আবার একটা ছবি দেখা যাবে তা আগে কেউ ভাবতেই পারেনি। ট্রেলার প্রসঙ্গে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় বলছেন, “আমার জন্ম যে সময়ে সেই সময়ে উত্তম কুমারের সঙ্গে কাজ করা সৌভাগ্য হয়নি। আর তাছাড়া ভাবলাম সময়ের কাঁটাকে উপড়ে ফেলে কীভাবে পিছিয়ে গিয়ে তাঁকে নিয়ে কাজ করা যায়”।

পুরনো ছবির ফুটেজ কেটে কেটে বানানো এই ছবির প্রসঙ্গে সৃজিত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “এটা একটা খুবই জটিল কাজ ছিল। সেই সময়ের ছবির প্রিন্টের অবস্থা খুবই খারাপ। নায়ক ছাড়া কয়েকটি ছবিই মাত্র হাতে গুনে রেস্টর করা হয়েছে। তাছাড়া যাঁদের কাছে উত্তম কুমারের ছবির সত্ব আছে তাঁদের খুঁজে বের করে সেখান থেকে ফুটেজ নেওয়া খুবই ঝক্কির। এত ঝক্কি সামলে যে ছবিটা যে তৈরি হবে সেটাই ঠিক ছিল না”।

‘অতি উত্তম’ মুক্তি পাচ্ছে ২২ মার্চ। ২০১৮ সালে এই ছবির কাজ শুরু হয়েছিল। পরিচালক বলছেন, “প্রায় ছয় বছর লাগল এটা কমপ্লিট করতে। রিলিজে দেরি হওয়ার নানা কারণ রয়েছে। প্রথমত, এই ভাবনাকে বাস্তবায়িত করা, টেকনিক‌্যাল বাধাগুলো উত্তীর্ণ হওয়া। ভিসুয়ালি ভিএফএক্স দিয়ে কতটা করা ম‌্যানেজ করা যায় সেটা বোঝা, সেটা নিয়ে আলোচনা করা। আরেকটা সমস‌্যা হল, অরিজিনাল মেটিরিয়ালটা খুব খারাপভাবে রিস্টোর করা। এমন অনেক ছবি আছে যেটার কোয়ালিটি খুব খারাপ, ভালো ভিএফএক্স দিয়েও রিট্রিভ করা সম্ভব হয়নি। আর চিত্রনাট‌্য লেখার প্রসেসটা বেশ দীর্ঘ।”

ছবি নিয়ে যেমন অনেকেই থ্রিলড আবার অন্যদিকে ট্রোলের বন্যা বয়ে গিয়েছে ট্রেলার দেখে। সৃজিত মুখার্জী বরাবরই ট্রোল নিয়ে বেশি মাথা ঘামান না। এক সাক্ষাৎকারে সৃজিত ট্রোলিং নিয়ে বলেছেন, “যে যুগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ট্রোল হন। সেখানে আমি সামান্য”। পরিচালকের কথায়, “ট্রোল না হলেই অবাক হতাম। তাছাড়া যে মিম গুলো তৈরি হচ্ছে বা হয়েছে সেগুলোতে বেশ বুদ্ধিমত্তার ছাপ আছে। ফলে ভালোই লেগেছে। আমি তো নিজেও শেয়ার করেছি”।

‘অতি উত্তম’ ছবির কাজটা কতটা সোজা ছিল এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পরিচালক বলছেন, “প্রথমে একটা স্ক্রিপ্ট লিখেছি, তারপর প্রতিটা সংলাপের যতটা সম্ভব কাছাকাছি লাইন উত্তম কুমারের ছবি থেকে খুঁজে বের করা। প্রথম ড্রাফটটা সেইভাবে লেখা। তারপর ছবি দেখতে দেখতে চিত্রনাট‌্য পাল্টাতে পাল্টাতে গিয়েছি। চুয়ান্নবার এডিট করতে হয়েছে। প্রায় সাতাশিটা ছবি দেখতে হয়েছে, তার মধ্যে চুয়ান্নটা ছবি কাজে লেগেছে। তাছাড়া কনটিনিউটি মেলাতে গিয়েও অনেক সমস‌্যা।”

 

RELATED Articles