ঠিক পাঁচ বছর আগের কথা। উনিশের লোকসভা নির্বাচনেও বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থেকে বিজেপি প্রার্থী করেছিল সৌমিত্র খাঁ-কেই। কিন্তু আদালতের নির্দেশের জেরে সেই সময় জেলায় ঢুকতে পারেন নি তিনি। ফলত তাঁর হয়ে তাঁর তৎকালীন স্ত্রী সুজাতা মণ্ডল ওই কেন্দ্রে গিয়ে প্রচার করেছেন।
এই পাঁচ বছরে গঙ্গা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। সেদিনের সেই স্বামী স্ত্রী আজ প্রাক্তন। পাঁচ বছরে তাদের সম্পর্কের সমীকরণ যেমন উল্টো, তেমনই আবার উল্টো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করার বিষয়ও। কারণ একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে যোগ দেন সুজাতা। সেখান থেকেই যদিও তাদের সম্পর্কের ফাটলের শুরু।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে আরামবাগ থেকে তৃণমূলের হয়ে লড়লেও জিততে পারেন নি সুজাতা। বাঁকুড়ার জয়পুরের জেলা পরিষদের সদস্য হন তিনি। তবে এবার শোনা যাচ্ছে, লোকসভা নির্বাচনে তাঁর প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে দেখা যেতে পারে সুজাতাকে।
ইতিমধ্যেই প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। বিষ্ণুপুর থেকে ফের প্রার্থী করা হয়েছে সৌমিত্র খাঁ-কেই। তৃণমূলের তরফে এখনও প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হয়নি। তবে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে বিষ্ণুপুর থেকে হয়ত সুজাতাকে টিকিট দিলেও দিতে পারে ঘাসফুল শিবির। এই আসন আসলে তফশিলিদের জন্য সুরক্ষিত। তাই সৌমিত্রের বিরুদ্ধে কোনও তফশিলি মুখ প্রয়োজন। এই আসনে প্রার্থী করতে তিনজনের নাম তালিকায় রেখেছে তৃণমূল।
কিছুদিন আগেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বাঁকুড়ার কোতুলপুরের বিজেপি বিধায়ক হরকালী প্রতিহার। এই কোতুলপুর বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিধানসভা কেন্দ্র। এই আসনে হরকালীকে প্রার্থী করলে তাঁকে আগে বিজেপির বিধায়ক পদ ছাড়তে হবে। আর তিনি যদি না জেতেন তাহলে, তৃণমূলের একূল ওকূল সব যাবে। কারণ এই আসনে তৃণমূলের জমি পলকা। আবার এই আসন থেকে প্রার্থী করার তালিকায় রয়েছেন কল্যাণ শাহ। তিনি কংগ্রেস ত্যাগী নেতা। আর তিন নম্বরে নাম রয়েছে সুজাতার।
এই বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে যে বিধানসভা কেন্দ্রগুলি রয়েছে, তা হল – বড়জোরা, ওন্দা, কোতুলপুর, ইন্দাস, সোনামুখী, খণ্ডঘোষ এবং ইন্দাস। উনিশের লোকসভা ভোটে এই আসন থেকে ৮০ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছিল বিজেপি। সেই জয়ের অন্যতম কারণ সুজাতাও বটে। এবার কী তবে এই আসন থেকে প্রাক্তন কর্তা-গিন্নির দ্বৈরথের দেখা মিলবে, এখন সেই প্রশ্নই উঠছে বারবার।





