‘না ফেরার দেশ থেকে…’ মৃত্যুর পরও ভোট দিলেন অভিনেতা দীপাঞ্জন ভট্টাচার্যের শ্বশুর, ছাপ্পা ভোটের অভিযোগে বিঁধলেন তৃণমূলকে

পয়লা জুন শেষ হয়েছে লোকসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ পর্ব। প্রায় দেড় মাস ধরে চলেছে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া। ‌ গতকাল ছিল সপ্তম ও শেষ দফার ভোট গ্রহণ পর্ব। ‌এই শেষ দফায় ভোট ছিল কলকাতা, উত্তর কলকাতার দক্ষিণ সহ যাদবপুরের কেন্দ্রে। ‌ সাধারণ মানুষের পাশাপাশি টলিউডের অভিনেতা অভিনেত্রীরা নাগরিক হওয়ার কর্তব্য পালন করেছেন। তবে ভোট দিতে গিয়ে চমকে যাওয়া তথ্য এল প্রকাশ্যে। অভিনেতা দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য (Deepanjan Bhattacharya) জানিয়েছেন তারপর এত শ্বশুরের নামে নাকি ভোট দেওয়া হয়েছে দিন। প্রমাণ হিসেবে তিনি একটি ছবিও পোস্ট করেন।

সোশ্যাল মিডিয়াতে এদিন ছবি পোস্ট করেছেন। পোস্ট করা ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে প্রদীপ ঘোষ নামক এক ব্যক্তির ভোটের কাগজ। কলকাতা উত্তরের বাসিন্দা দীপাঞ্জন (Deepanjan Bhattacharya)। ‌এই ছবি পোস্ট করে দীপাঞ্জন(Deepanjan Bhattacharya) লেখেন, ‘খবরটা পাওয়ার পর থেকেই খুব কষ্ট হচ্ছে। আমার স্ত্রী খুবই ভেঙে পড়েছে। বাপি তুমি এলে আর একবারও বললে না। সততার প্রতীকরা এটা কীভাবে করতে পারল? এরপরও এক্সিট পোলের উপর ভরসা রাখি কী করে? বাপি তুমি ২০১৬ সালে আমাদের ছেড়ে চলে গেলে, বললে না ফেরার দেশে যাচ্ছ। কিন্তু এবার সেখান থেকেই ভোট দিতে এলে, আর দেখা করলে না? তুমি তো সব দেখতে পাও, তোমার ভোটটা কে দিল বল না বাপি?’ তিনি এদিন এই পোস্টে আরও লেখেন, ‘নির্বাচন কমিশন তোমার অ্যাপায়ন করেছে তো? তোমার কোনও কষ্ট হয়নি তো? তিনুরা তোমায় কত ভালোবাসে দেখো, তোমায় না ফেরার দেশে থেকেও ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে।’

বলা বাহুল্য, অভিনেতা দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য (Deepanjan Bhattacharya) গোটা পোস্টটি হাসির খোরাকে লিখেছেন। এই ঘটনায় বাম সমর্থক দীপাঞ্জন (Deepanjan Bhattacharya) ইঙ্গিত করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে‌। গতকাল রাজ্যের শেষ দফার যে নয় কেন্দ্রে ভোট হয়েছে সেখানে কোথাও কোথাও অশান্তির খবর পাওয়া গিয়েছে। দীপাঞ্জনের মত এদিন আরও অনেকে মৃত আত্মীয়দের নামে ভোট দেওয়া হয়েছে বলে দেখেছেন।

দীপাঞ্জন ভট্টাচার্যের (Deepanjan Bhattacharya) পোস্টে এক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন, ‘আর আমার মাসতুতো বোনের শ্বশুর ভোট দিতে গিয়ে দেখলেন তিনি মৃত। আর প্রিসাইডিং অফিসার আবার বলেছে ওঁকে ,উনি ভোট অনেক দিয়েছেন তাই আর না দিলেও চলবে।’

অপর একজন লিখেছেন, ‘একবার তো প্রয়াত গায়ক দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ও সল্টলেকে ভোট দিয়েছেন। এসবে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এত কিছু দুয়ারে হতে পারলে যমের দুয়ারে থেকেই বা ফেরা যাবে না কেন?’ অন্য এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘যাক, মৃত মানুষেরা ওপর থেকে ফিরে এসে ভোট দিয়ে চলে গেলেন। আমরা জীবিত যারা, তাদের যে মৃত করে ওপরে পাঠিয়ে দেননি এই ভালো।’

RELATED Articles