বিতর্ক মানে জি বাংলা (Zee Bangla)! একের পর এক বিতর্ক লেগেই রয়েছে চ্যানেলের বিভিন্ন শো নিয়ে। কিছুদিন আগেই মেডিকেল ইকুইপমেন্ট হিসাবে স্কচবাইট ব্যবহার করে হাসির রোল তুলেছিল এই চ্যানেলের কৃষ্ণকলি ধারাবাহিকটি। এবার ঝড় তুলেছে চ্যানেলের আসন্ন নতুন ধারাবাহিক ‘পান্ডব গোয়েন্দা’ (Pandab Goenda)।
লেখক ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় (Sasthipada Chattopadhyay) -এর ‘পান্ডব গোয়েন্দা’ উপন্যাস গুলোর উপর ভিত্তি করেই এই ধারাবাহিক তৈরি হয়েছে। কিন্তু যার টিজার দেখে যারপরনাই ক্ষিপ্ত বাঙালি। বাঙালির কাছে ‘পান্ডব গোয়েন্দা’ ফেলুদা, ব্যোমকেশ এর মতই নস্টালজিয়া এবং ইমোশন। সেখানেই এই ধারাবাহিকের টিজারে দেখানো হয়েছে যে গল্পের চরিত্র বাবলু এবং বাচ্চুর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক! পরিণীতা সিনেমার ‘প্রাণ দিতে চাই, মন দিতে চাই’ গান দিয়ে শুরু হচ্ছে টিজার! এমনকি অ্যানিমেশনে তৈরি পোষ্য কুকুর পঞ্চুকেও ঠিক মানাচ্ছে না গোটা দৃশ্যায়নে চোখে দেখা যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে রীতিমতো দৃষ্টিকটু উঠেছে গোটা বিষয়টি, মন্তব্য তাদের যারা ছোটবেলা থেকে ‘পান্ডব গোয়েন্দা’ পড়ে বড় হয়েছেন। আধুনিকতার জোয়ারে গা ভাসিয়ে এইভাবে কি কোন সাহিত্য কে নষ্ট করে দেওয়া উচিত, উঠেছে প্রবল বিতর্কের ঝড়।
এই উপন্যাসের লেখক ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় এখনো বেঁচে আছেন। এই বৃদ্ধ বয়সে সাহিত্যিক জীবনের অন্যতম ধাক্কা তিনি পেলেন বলে মনে করছেন নেটিজেনরা। তিনি এই টিজার দেখে অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কিশোর উপন্যাস যে এইভাবে চ্যানেলের হাত ধরে নিজের চরিত্র পাল্টে অদ্ভুত রূপ নেবে তা কোনোদিনও দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করেননি ষষ্ঠীপদবাবু।তিনি রীতিমতো ক্ষোভের সঙ্গে জানান, “আমার লেখক জীবনের দুর্ভাগ্য, যে মরবার বয়সে এসব দেখে যেতে হচ্ছে। আমার লেখা বই যদি খারাপ হয় তাহলে মানুষ গালিগালাজ করবে। আমি তখন বই লেখা বন্ধ করে দেব। টেলিভিশনের ভিতর যা হচ্ছে তা আমার পক্ষে বন্ধ করা সম্ভব নয়। কোনও বিত্তবান মানুষের পক্ষেই রুখে দাঁড়াতে সম্ভব।”
গোয়েন্দা কাহিনী নিয়ে সিরিয়াল, সিনেমা তো অনেক আগের কথা এখন ওয়েব সিরিজও তৈরি হয়। সেখানে সিনেমার প্রয়োজনে একটু আধটু বদল ঘটাতেই হয়। স্বয়ং সত্যজিৎ রায় যখন ‘ফেলুদা’ নিয়ে সিনেমা করেছিলেন সেই সময় চিত্রনাট্য পাল্টেছিলেন অথচ ফেলুদার রচয়িতা সত্যজিৎ রায় স্বয়ং। সেখানে পান্ডব গোয়েন্দার এতোখানি বদল মেনে নিতে পারছেন না কেউই। সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ধারাবাহিকটি করার আগে অবশ্যই ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়েছিল।তিনি বলেছেন, “আমি সই করেছি। আমিই অনুমতি দিয়েছি। তাই এখন আমি বিরোধিতা করতে পারব না।”
এখানেই জমছে ধোঁয়াশা। কারণ এর থেকে প্রমাণিত হচ্ছে যে, ধারাবাহিকের বিষয়বস্তু কী হবে সেই নিয়ে লেখককে অবগত করা হয়নি। বাবলু- বাচ্চুর প্রেম দেখানো নিয়ে রীতিমতো আহত হয়েছেন ষষ্ঠীপদ বাবু। তাঁর বক্তব্য, “কিশোর বয়স যখন রোম্যান্স দেখানো যেতেই পারে। তবে পাণ্ডব গোয়েন্দার টিম যখন তৈরি হয় তখন তারা একেবারে ভাই-বোনের মত। যার কারণে রোম্যান্স দেখানোই যায় না। তবে চ্যানেল তো অন্য কিছু করছে।”
ইউটিউবে গেলে দেখা যাচ্ছে টিজারে লাইক এর থেকে ডিসলাইক এর সংখ্যা বেশি। যেভাবে বাঙালি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন তাতে জি বাংলা কর্তৃপক্ষ এখন যদি কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না নেয় তবে অচিরেই তাদের আইনি শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে সূত্র মারফত।





