ধর্মপ্রচারকই নাকি হয়ে উঠেছিলেন নাশকতা করার অনুপ্রেরণা। এমনটাই জানিয়েছে দিল্লিতে ধৃত আইএস জঙ্গি আবু ইউসুফ খান। ইসলাম ধর্মপ্রচারক জাকির নায়েকের দেওয়া ভাষণ শুনেই নাকি আইসিসে যোগ দেওয়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছিল দিল্লিতে ধৃত জঙ্গি আবু ইউসুফ খান।
মুম্বই নিবাসী ইসলাম ধর্মপ্রচারক জাকির নায়েকের নাম প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০১৬ সালে। বাংলাদেশ ঢাকার গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারির ভিতরে জঙ্গি হামলা করে বহু মানুষকে কুপিয়ে মারা হয়। এর পরেই হামলাকারী জঙ্গিরা জানায়, তারা জাকির নায়েকের বক্তৃতা থেকে এই হামলার জন্য অনুপ্রাণিত হয়েছিল। এর পরে কাশ্মীরের জঙ্গিদের মধ্যে জাকির নায়েকের জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়তে থাকে দ্রুত।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, তদন্তকারীরা জেরা করতে গিয়ে এমনটাই জানতে পেরেছেন ধৃত ওই জঙ্গির কাছ থেকে। দিল্লির বুকে বড় নাশকতার পরিকল্পনা ছিল আবুর। আর তার জন্যই নিজেকে প্রস্তুত করছিল সে। বারুদ, ডিটোনেটর, তাঁর, আইইডি, সুইসাইড ভেস্ট, আইসিস জঙ্গি গোষ্ঠীর পতাকা, সবকিছুই উদ্ধার হয়েছে তার বাড়ি থেকে। তবে বড় নাশকতা ঘটানোর আগেই শুক্রবার গভীর রাতে রাজধানীর ধৌলা কুঁয়া এলাকায় দিল্লি পুলিশের বিশেষ দলের সঙ্গে এনকাউন্টার হয় আবুর। শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয় তাকে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, জেরায় আবু দাবি করেছে, জাকির নায়েকের বক্তব্য শুনেই নাশকতার নেশা পেয়ে বসেছিল তাকে। উত্তরপ্রদেশের বলরামপুরের বাসিন্দা, ৩৬ বছরের আবু লোন উল্ফ কায়দায় হামলার ছক কষেছিল সদ্য পার হওয়া স্বাধীনতা দিবসে। যাতে কারও সন্দেহ না হয়, তাই একাই হামলা চালাতে চেয়েছিল সে। কিন্তু করোনা আবহ ও লকডাউনে ভেস্তে গেছে প্ল্যান।
কি ভাবে আবুকে বাগে পেলো পুলিশ?
পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর ছিল যে শুক্রবার রাতে ধৌলা কুঁয়া ও করোল বাগের মধ্যে আইসিস সদস্যের কিছু গতিবিধি রয়েছে। সেইমতো তৈরি ছিল পুলিশ। আগে থেকেই বিছানো ছিল জাল। আর ভুলে সেই জালে পা দেয় আবু। তারপরেই শুরু হয় এনকাউন্টার। সেনাবাহিনীর স্কুলের সামনে এই গুলির লড়াই চলে। মোট ৫ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য পুলিশের জালে ধরা পড়ে সে। তার পরেই স্বীকার করে জাকির নায়েকের কথা।
এর পরে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে। অন্যায় কার্যকলাপের জন্য বিদেশ থেকে টাকা নেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। এর পরে ২০১৮ সাল থেকে জাকির নায়েক দেশছাড়া। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় রয়েছে এই ধর্ম প্রচারক। কিন্তু তা সত্ত্বেও যে উস্কানিমূলক বক্তৃতা দেওয়া থেমে থাকেনি, তার প্রমাণ মিলেছে বহুবার। জাকিরের ভাষণের প্রভাবে বহু যুবক যে আইসিস-এ যোগ দিয়েছে তার প্রমাণ মিলেছে বারবারই। এমনকি কয়েক মাস আগেও দিল্লি দাঙ্গা চলাকালীন জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে হিংসায় মদত দেওয়ার জন্য অর্থ জোগানের অভিযোগ উঠেছিল। এবার আবু ইউসুফের বয়ানেও ফের সেই একই নাম উঠে এল।





