আর জি কর হাসপাতালের ভয়াবহ ঘটনায় তার হয়ে উঠেছে সারা বাংলা গোটা রাজ্যের সাধারণ মানুষ কখনো মোমবাতি, কখনো মশাল হাতে নিয়ে নামছেন রাস্তায়। সবার মুখে থাকছে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ (we want justice) এবং জাস্টিস ফর আর জি কর স্লোগান। সাধারণ মানুষের সাথে স্লোগানে মিছিলে মিশে গেছেন বিনোদন দুনিয়ার মানুষরা। এই জন্য তারা যেমন প্রশংসিত হচ্ছেন আবার একাংশকে নিয়ে হয়েছে তুমুল কটাক্ষ। তারা যাই করুন না কেন তাদের নিয়ে হচ্ছে ট্রোলিং। তাহলে কি টলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীরাফ টার্গেট হয়ে উঠছেন জনতার?
আর জি করের ঘটনায় প্রথম থেকে একদমই স্বরব ছিলেন না রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে ‘লাপাতা লেডিস’ বলে ব্যাপক ট্রোলিং হয়েছিল। এরপর নির্যাতিতার বিচার চেয়ে তিনি একটি ভিডিও সমাস মাধ্যমে পোস্ট করেন। সেই ভিডিও তার চোখে জল দেখা যায়। ফের সমাজ মাধ্যমে তাকে নিয়ে শুরু হয় ট্রোলিং ‘কুমিরের কান্না’ বলে ট্রোল করা হতে থাকে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তও সোশ্যাল মিডিয়া একটি ভিডিও পোস্ট করেন। আর জি করের প্রতিবাদের সামিল হতে শাক বাজিয়ে সমাজ মাধ্যমে ভিডিওটি পোস্ট করেন তিনি। তবে সেই ভিডিও নিয়ে সমাজ মাধ্যমে বয়ে যায় মিম এবং ট্রোলিংয়ের ঝড়। কেউ বলেন শাঁখ থেকে চুষে জল খাচ্ছে’। সাধারণ মানুষ থেকে টলিউডের তারকারাও ট্রোলিং করেন ঋতুপর্ণার এই ভিডিও কে। যদিও তারপর সেই ভিডিও ঋতুপর্ণা ডিলিট করে দেন।
এই ঘটনায় প্রথম দিন থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া হোক বা রাস্তায় প্রতিবাদ করে আসছেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। কিন্তু কটাক্ষের হাত থেকে পার পেলেন না তিনিও। সমাজ মাধ্যমে তার নতুন ছবি টেক্কার প্রচার শুরু হয়েছে। ‘স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় উৎসব এ ফিরছেন না কিন্তু উৎসবে নিজের সিনেমা নিয়ে আসছেন’, এই নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে করা হয় কটাক্ষ।
এই বিষয়ে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানিয়েছেন, “খালি পেটে বিপ্লব হয় না, সাথি! ভাতের জন্যেও লড়তে গেলে ভাতের স্বাদ জানতে হয়। তাই যদি বেঁচে থাকার পন্থাকে আপনারা নিন্দা করতে শুরু করেন, তা হলে খুনের জন্য বিচার চাওয়াটা হিপোক্রেসি নয় কি?” পাল্টা কটাক্ষ এনে তিনি নিজের পক্ষেও যুক্তি দিয়েছেন। আরও লিখেছেন, “আমার কাজের প্রতি আমার দায় আছে, দায়িত্ব আছে। আমি প্রচার করার জন্য চুক্তিবদ্ধ। কাজের প্রতি ভালবাসার জায়গা থেকে প্রচারও করব নতুন ছবির, আবার আন্দোলনেও থাকব। দু’টোই করব। এবং বেশ করব।” তিনি মুখ খোলা মানেই নতুন করে ‘কথা’ তৈরি হওয়া। সে বিষয়েও অভিনেত্রী সচেতন। কিন্তু ভীত নন। তাই তাঁর আরও বক্তব্য, “প্রতিবাদ করছি বলে কিছু মানুষ দেখলাম তার প্রতিবাদ করছেন। অদ্ভুত, এই প্রথম দেখলাম এমন। অসুবিধা নেই। আর কোনও কৈফিয়তও আমি দেব না। আন্দোলন দীর্ঘজীবি হউক”।
এবার এই প্রসঙ্গে রাগে এবং ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অভিনেত্রী পায়েল সরকার। অভিনেত্রীর কথায়, “কোথায় লেখা আছে, কাজের পাশাপাশি আন্দোলন করা যায় না? কিংবা আন্দোলন করতে গেলে কাজ করা যাবে না?” পাশাপাশি তিনি মেনে নিয়েছেন, নির্যাতিতার জন্য ন্যায় চেয়ে যত না প্রতিবাদ হচ্ছে, তার থেকে বেশি প্রতিবাদ হচ্ছে খ্যাতনামীদের নিয়ে। তাঁদের শাঁখ বাজানো নিয়ে, কান্নাকাটি নিয়ে, হাসাহাসি নিয়ে, সাজগোজ নিয়ে। এই জায়গা থেকেই অভিনেত্রীর মনে হয়েছে আন্দোলন বুঝি বেপথ হতে চলেছে”।
আরও পড়ুনঃ ‘আমি তো পেশায় অভিনেতা, ছবির প্রচারও করব, আন্দোলনও করব, বেশ করব…’, ছবির প্রচার করায় ট্রোলড, নিন্দুকদের উচিত জবাব দিলেন স্বস্তিকা
যারা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাজ করা নিয়ে ট্রোল করছেন তাদের সামনে একটি প্রশ্ন রেখেছেন অভিনেত্রী পায়েল সরকার। তাদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন রেখে জানিয়েছেন, “ধরুন, আমরা না হয় বসে গেলাম। কিন্তু যাঁরা পর্দার পিছনে থাকেন? স্পট বয় থেকে টেকনিশিয়ান— তাঁদের দায়িত্ব কে নেবেন? খাওয়াবেন কে তাঁদের?” অভিনেত্রী জানিয়েছেন, কারও এখন কিছু ভাল লাগছে না। তার পরেও সিনিয়র চিকিৎসকেরা চিকিৎসা করছেন। ব্যাঙ্ককর্মী থেকে প্রযুক্তিকর্মী হয়ে সাংবাদিক— প্রত্যেকে তাঁদের কাজ করে যাচ্ছেন। অভিনেতারাও সেটাই করছেন। তাঁর দাবি, সেটে টানা চলতে থাকা শুটিংয়ে কিন্তু কোনও ‘বিনোদন’ নেই। যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা সেটা হাড়ে হাড়ে টের পান। তাই তাঁর মতে, অভিনেতা-পরিচালক-প্রযোজকদের চাইতে তাঁদের সমর্থন জানানো বেশি দরকার, যাঁরা বিনোদনের সঙ্গে যুক্ত থেকে দিন আনেন দিন খান”। পায়েল জানান এবার হয়তো স্বস্তিকার পর নেটনাগরিকদের কটাক্ষের শিকার হবেন তিনি। তাকে নিয়ে হয়তো সমাজ মাধ্যমে হয়ে শুরু হবে দেদার মিমস এবং ট্রোলিং।





