সম্প্রতি পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি। দীর্ঘ চার দশকের অভিনয় জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে এই রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়ার পর নিজের অনুভূতির কথা ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। আজকাল ডট ইন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রসেনজিৎ বলেন, “সত্যি কথা বলছি যে মুহূর্তে মাননীয় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আমাকে মেডেলটা পরালেন, আমার হাতে মানপত্র তুলে দিলেন, সেই মুহূর্তে আমার যেটা মনে হয়েছিল এত লক্ষ লক্ষ মানুষের ভালবাসা, বিশ্বাস, আমার পরিচালক, প্রযোজক, সহ-শিল্পী, আমার কলাকুশলী বন্ধুরা সকলে আছেন, আমি বাংলা ছবি করেই পদ্মশ্রী পেলাম।” এই অনুভূতিকেই তিনি তাঁর জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন। বাংলা সিনেমার প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে তিনি বিশেষভাবে গর্বিত বলেও জানান।
অভিনয় জীবনে বহু সফল ছবি উপহার দিয়েছেন প্রসেনজিৎ। বাণিজ্যিক ছবি থেকে শুরু করে ভিন্নধারার সিনেমা, সব ক্ষেত্রেই তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। পদ্মশ্রী সম্মান পেতে দেরি হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেতা বলেন, “অনেকেই আমাকে বলেছিলেন যে একটু দেরি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি কোনওটাই দেরি নয়, আমার এখনও অনেক কাজ করা বাকি আছে।” তাঁর মতে, সম্মান পাওয়ার সময় নিয়ে ভাবার চেয়ে কাজের প্রতি দায়বদ্ধতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি তিনি বলেন, বাংলা সিনেমার জন্য এই সম্মান নিয়ে যেতে পারাটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় সাফল্য।
এই বিশেষ সম্মান তিনি উৎসর্গ করেছেন তাঁর প্রয়াত মাকে। সাক্ষাৎকারে প্রসেনজিৎ জানান, পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তে বারবার মায়ের কথাই মনে পড়ছিল। তিনি বলেন, “খুব স্বাভাবিকভাবেই মায়ের কথা খুব মনে পড়ছিল। সকলেই জানেন, আমি আজ যে বসে কথা বলছি এটা মায়ের জন্য। মা আমার শক্তি। মা আমার পাওয়ারহাউস।” অভিনেতার কথায়, তাঁর জীবনের প্রতিটি সাফল্যের পিছনে মায়ের অবদান রয়েছে। তাই পদ্মশ্রীর মতো বড় সম্মান পাওয়ার পর প্রথমেই তিনি মায়ের স্মৃতিকেই শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
ভারতীয় সিনেমা এবং বিনোদন জগতে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাষ্ট্রপতি ভবনের মঞ্চে সম্মান গ্রহণের সময় প্রসেনজিৎ-এর উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে নজরকাড়া। বাংলা চলচ্চিত্রের একজন প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর এই সাফল্যকে চলচ্চিত্র মহলও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ২০০-রও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন এবং এখনও সমান উৎসাহে কাজ করে চলেছেন।
আরও পড়ুনঃ অল-আউট অ্যাকশন মমতা-অভিষেকের, এক ঝটকায় ভে’ঙে দেওয়া হল তৃণমূলের সব কমিটি ও শাখা সংগঠন! সংগঠনের রাশ ফের নিজের হাতে নিয়ে কি আগামী দিনে আরও শক্ত ভিতের উপর দলকে দাঁড় করাতে পারবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
পদ্মশ্রী গ্রহণের দিন পোশাকেও বাঙালিয়ানার ছাপ রেখেছিলেন অভিনেতা। সূক্ষ্ম সোনালি সুতোর কাজ করা একটি পাঞ্জাবি পরে তিনি মঞ্চে ওঠেন। পুরস্কার পাওয়ার পর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রসেনজিৎ বলেন, “ভারত সরকারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, আমাকে এই সম্মাননা প্রদানের জন্য। বিগত ৪০ বছরের অভিনয় জীবনে আমার পরিচালক, প্রযোজক সহশিল্পী সকলে আমার অভিনয় জীবনের অংশ, এই সম্মানপ্রাপ্তি আমার একার নয়, এই সম্মান সকলের যাঁরা আমাকে প্রসেনজিৎ বানিয়েছেন।” তাঁর এই বক্তব্যে উঠে আসে সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং দর্শকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতার অনুভূতি।






